যশস্বীকে চার ম্যাচের নির্বাসন থেকে বাঁচিয়েছিলেন রাহানে!
চার বছর আগে দলীপ ট্রফির একটি ম্যাচে যশস্বী জয়সবালের আচরণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই ঘটনার জেরে চার ম্যাচের নির্বাসনের মুখেও পড়েছিলেন ভারতের তরুণ ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত অজিঙ্ক রাহানের হস্তক্ষেপেই সেই শাস্তি থেকে রেহাই পান যশস্বী। এত দিন পর সেই ঘটনার নেপথ্যকাহিনি প্রকাশ্যে আনলেন রাহানে।
২০২২ সালের দলীপ ট্রফির ফাইনালে পশ্চিমাঞ্চলের হয়ে খেলছিলেন রাহানে এবং যশস্বী। প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণাঞ্চল। ম্যাচ চলাকালীন দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটার রবি তেজাকে বার বার স্লেজিং করছিলেন যশস্বী। আম্পায়ার তাঁকে সতর্ক করলেও তাতে থামেননি তিনি। এমনকি অধিনায়ক রাহানে বারণ করার পরেও যশস্বী একই আচরণ চালিয়ে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত যশস্বীকে কিছু সময়ের জন্য সাজঘরে পাঠিয়ে দেন রাহানে। সেই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই অবাক হয়েছিলেন তরুণ ব্যাটার। কিন্তু পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন তিনি।
চার বছর পর সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে রাহানে জানিয়েছেন, মাঠে স্লেজিং ক্রিকেটেরই অংশ। তাঁর মতে, কিছুটা স্লেজিং খেলায় উত্তেজনা বাড়ায়। কিন্তু সেই ম্যাচে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছিল, যেখানে বিষয়টি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল।
রাহানে বলেন, যশস্বীর খারাপ লেগেছিল, সেটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু অতীতে স্লেজিংয়ের কারণে অনেক ক্রিকেটারকে নির্বাসনের মুখে পড়তে হয়েছে। একটি সুযোগ হারিয়ে গেলে একজন ক্রিকেটারের কেরিয়ারের গতিপথও বদলে যেতে পারে। তাই সতীর্থকে এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব বলেই মনে করেছিলেন রাহানে।
আর এখানেই আসে ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাহানের দাবি, ম্যাচ রেফারি বেঙ্গালিল নারায়ণন কুট্টি যশস্বীকে চার ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন। এমনকি শাস্তির চিঠিও তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
রাহানে জানান, তিনি ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথা বলে যশস্বীর হয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। তখন ম্যাচ রেফারি তাঁকে বলেন, যেহেতু রাহানে নিজে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, তাই সেই চিঠি আর কার্যকর করা হবে না। রাহানের সামনেই চিঠিটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন ম্যাচ রেফারি।
ফলে চার ম্যাচের নির্বাসন থেকে বেঁচে যান যশস্বী। রাহানের মতে, সেই সময় শাস্তি হয়ে গেলে যশস্বীর কেরিয়ারে কী প্রভাব পড়ত, তা বলা কঠিন। এমনকি হয়তো ভারতের হয়ে খেলার সুযোগও তাঁর নাও আসতে পারত।
আজ সেই যশস্বীই ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরুণ ব্যাটার। চার বছর আগের সেই ঘটনা তাই শুধু একটি মাঠের বিতর্ক নয়, বরং সতীর্থের প্রতি একজন অধিনায়কের দায়িত্ববোধেরও উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।