৬০-এর পরে ওজন ঝরাতে কী কী নিয়ম মানা জরুরি?
বলিউড অভিনেতা সলমন খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, নতুন ছবির প্রস্তুতির জন্য তিনি প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এর আগে তাঁর ক্লান্ত চেহারা, চোখ বসে যাওয়া এবং কাশির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনুরাগীদের মধ্যে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এখন অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত ওজন কমানোর প্রভাবই হয়তো তাঁর চেহারায় ফুটে উঠেছিল।
বর্তমানে সলমন তাঁর আসন্ন দুটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত। জানা গিয়েছে, নতুন চরিত্রের জন্যই শরীরের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এনেছে—৬০ বছর বয়সের পরে ওজন কমানোর সঠিক উপায় কী?
কেন ৬০-এর পরে ওজন কমানো আলাদা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশির পরিমাণ কমে, বিপাকক্রিয়া ধীর হয় এবং হাড়ের ঘনত্বও কমতে শুরু করে। তাই এই বয়সে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করলে পেশি ক্ষয়, দুর্বলতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং পুষ্টির ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর নিয়ম
পুষ্টিবিদদের মতে, ৬০-এর পরে ওজন কমাতে হলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মেনে চলা প্রয়োজন—
- ক্র্যাশ ডায়েট এড়িয়ে চলুন। খুব কম ক্যালোরির ডায়েট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান। বিশেষ করে লিউসিনসমৃদ্ধ প্রোটিন পেশি রক্ষা করতে সাহায্য করে।
- ধীরে ধীরে ওজন কমান। সপ্তাহে প্রায় ০.৫ থেকে ১ কেজি ওজন কমানোই নিরাপদ। ১৬ কেজি কমাতে কয়েক মাস সময় লাগা স্বাভাবিক।
- শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করুন। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ওয়েট ট্রেনিং বা রেজিস্ট্যান্স এক্সারসাইজ করলে পেশি ও হাড়ের শক্তি বজায় থাকে।
- ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি হতে দেবেন না। বিশেষ করে ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
হঠাৎ ওজন কমলে কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
অল্প সময়ে অনেকটা ওজন কমে গেলে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে—
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা বসে যাওয়া
- ক্লান্ত ও দুর্বল দেখানো
- পেশির ভর কমে যাওয়া
- শক্তি হ্রাস
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
তবে শুধুমাত্র চেহারা দেখে কারও অসুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কারও ওজন কমার কারণ, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য না জেনে কোনও চিকিৎসাগত উপসংহার টানা উচিত নয়।
মূল কথা
৬০ বছর বয়সের পরে ওজন কমানো অসম্ভব নয়, তবে সেটি ধীরে, পরিকল্পিতভাবে এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে করা উচিত। লক্ষ্য শুধু ওজন কমানো নয়, বরং পেশিশক্তি, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামই এই বয়সে নিরাপদ ও টেকসই ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।