সারাদিন স্ক্রিনের সামনে?
অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, মোবাইলে সামাজিক মাধ্যম কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিরিজ় দেখা— আধুনিক জীবনে দিনের বড় অংশই এখন কাটে মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দার সামনে। এর ফলে অনেকেরই চোখে জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, শুষ্কতা, মাথাব্যথা বা দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের ভাষায়, এই সমস্যাকেই বলা হয় ডিজিটাল আই স্ট্রেন। তবে একটি সহজ অভ্যাস এই অস্বস্তি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করতে পারে— সেটিই ‘২০-২০-২০’ নিয়ম।
কী এই ২০-২০-২০ নিয়ম?
নিয়মটি খুবই সহজ। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনে কাজ করার পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরে থাকা কোনও বস্তু বা দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকুন। এতে দীর্ঘ সময় একই দূরত্বে ফোকাস করে থাকা চোখের পেশিগুলি কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং চোখের উপর চাপ কমে।
কেন এই নিয়ম কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে।
- দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে ফোকাস করার ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়া চোখের পেশিগুলি সাময়িক বিশ্রাম পায়।
- চোখের স্বাভাবিক পলক ফেলার হার ফিরে আসে, ফলে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
- ডিজিটাল আই স্ট্রেনের কারণে হওয়া মাথাব্যথা, চোখের অস্বস্তি ও ঘাড়ের চাপ কিছুটা কমানোর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সহায়ক হতে পারে।
শুধু এই নিয়মই যথেষ্ট নয়
চোখ ভালো রাখতে আরও কয়েকটি অভ্যাস জরুরি।
- স্ক্রিনে কাজ করার সময় সচেতনভাবে বারবার চোখের পলক ফেলুন। দীর্ঘক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে অনেকেই অজান্তেই কম পলক ফেলেন, যার ফলে চোখের আর্দ্রতা কমে যায়।
- মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আশপাশের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখুন। অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা খুব কম আলো— দু’টিই চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
- প্রয়োজন হলে লেখার ফন্টের আকার বড় করে নিন, যাতে চোখকে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে পড়তে না হয়।
- ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে স্ক্রিনটি চোখ থেকে প্রায় এক হাত দূরে রাখুন। মনিটরের উপরের অংশ যেন চোখের সমান উচ্চতায় বা সামান্য নীচে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় বের করে এই সহজ অভ্যাসগুলি মেনে চললে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখের উপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?