পুলিশের রিপোর্টে নতুন তথ্য!
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সংসদ অভিযান ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা শুধু কর্মসূচির দিনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পর আরও প্রায় ছয় দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, পাথর ছোড়াছুড়ি এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিকবার পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তদন্তকারী এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সংসদ অভিযানের দিন যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। মূলত নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছাত্রছাত্রী এবং সমর্থকেরা যোগ দেন। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও যুক্ত হন। তদন্তকারীদের দাবি, আন্দোলনের ভিড়ে কিছু উস্কানিমূলক গোষ্ঠী ঢুকে পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তোলে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পুলিশের উপর হামলা, সরকারি বাসে ভাঙচুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগও সামনে এসেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অশান্তি শুধু সংসদ ভবনের আশপাশে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের নথিতে ডাকখানা এলাকা, কনট প্লেস, রফি মার্গ, রেল ভবনের সংলগ্ন অঞ্চল এবং রাইসিনা রোডকে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির হিসাবেও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। পুলিশের দাবি, মোট ১১০টি ব্যারিকেড ভাঙা হয়েছে। পাশাপাশি একটি জলের ট্যাঙ্কার, বাস-সহ অন্তত ২৯টি সরকারি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি সম্পত্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জামও নষ্ট হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আহতের সংখ্যাও কম নয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অশান্তির জেরে ২৪৪ জন পুলিশকর্মী এবং ২০৯ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কারা অশান্তি ছড়াতে ভূমিকা নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?