পাকিস্তানি গ্যাংস্টার-যোগে পশ্চিমবঙ্গে নাশকতার আশঙ্কা!
পাকিস্তান-যোগ, মাদক পাচার এবং সম্ভাব্য নাশকতার ছক— এই তিনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বাসিন্দা হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, হামিমের যোগাযোগ ছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভাট্টি এবং তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং সম্ভাব্য নাশকতার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
কী ভাবে সন্দেহের সূত্রপাত?
তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামিম কর্মসূত্রে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করতেন। ভোটের আগে তিনি সেই কাজ ছেড়ে পূর্ব বর্ধমানে ফিরে আসেন এবং পরে বর্ধমান শহরের একটি আবাসনে ভাড়া থাকতেন।
এসটিএফের দাবি, প্রায় এক বছর আগে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর যোগাযোগ হয় পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সঙ্গে। তদন্তকারীদের মতে, ওই নেটওয়ার্ক প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি করে, পরে ভিডিও কল ও ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে সম্ভাব্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
শাহজ়াদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক কী?
গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজ়াদ ভাট্টির বিরুদ্ধে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির একাধিক মামলায় মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, এই চক্র সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক ভারতে পাঠিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে। ভারতীয় তদন্তকারীদের মতে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়েও তদন্ত চলছে।
হামিমকে কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল?
এসটিএফ সূত্রের দাবি, হামিমের সঙ্গে শাহজ়াদ গোষ্ঠীর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং হাওয়ালা মারফত কিছু অর্থও তাঁর কাছে পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল—
- গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
- সম্ভাব্য নাশকতার প্রস্তুতি,
- স্থানীয় স্তরে নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামিমের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাট, নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। তবে কোনও পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছিল বা অস্ত্র ও মাদক তাঁর হাতে পৌঁছেছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগ
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রবাদী প্রচারের চেষ্টা চলছিল বলে সন্দেহ। এসটিএফের দাবি, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহের পরিকল্পনারও কিছু প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তবে এই অভিযোগগুলিও এখনও তদন্তাধীন।
তদন্ত চলছে
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাহজ়াদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। পশ্চিমবঙ্গে হামিমের গ্রেফতারের পর এই চক্রের আরও কেউ সক্রিয় রয়েছে কি না, তার খোঁজ চলছে।
রাজ্য সরকারও বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি স্পর্শকাতর তদন্ত বলে উল্লেখ করেছে। এসটিএফ বর্তমানে হামিমের মোবাইল ফোন, অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ বিচারাধীন এবং আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?