ক্লাসরুম থেকে বিশ্বমঞ্চে!
বর্তমান বিশ্বে হসপিটালিটি আর শুধুমাত্র হোটেল বা রেস্তরাঁর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিমান পরিবহণ, ক্রুজ, বিলাসবহুল পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা— প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষ হসপিটালিটি পেশাদারদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিবর্তিত শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোটেল ম্যানেজমেন্ট (আইআইএইচএম)।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে আতিথেয়তা শিল্পের ধারণাও। এখন এই ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীরা শুধু দেশের নামী হোটেলেই নয়, আন্তর্জাতিক রিসর্ট, ক্রুজ লাইন, এয়ারলাইনস কিংবা গ্লোবাল সার্ভিস সেক্টরেও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয় আইআইএইচএম।
ভারতের কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ, গোয়া, আহমেদাবাদ, জয়পুর, শিলিগুড়ি, কালিম্পং, উদয়পুর, দেরাদুন ও শিলং-সহ একাধিক শহরে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাস। পাশাপাশি ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরেও রয়েছে তাদের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। ফলে শিক্ষার্থীরা ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক— দুই ধরনের কর্মসংস্কৃতির সঙ্গেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
আইআইএইচএম-এর পাঠক্রম শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রন্ট অফিস, ফুড প্রোডাকশন, হাউজকিপিংয়ের মতো বিষয়গুলির পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলার উপর। এই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণই শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে।
প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আতিথেয়তা শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। তবে আইআইএইচএম-এর দর্শন প্রযুক্তিকে মানুষের বিকল্প নয়, বরং সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও চিফ মেন্টর ড. সুবর্ণ বসুর “High Tech, Higher Touch” দর্শন অনুযায়ী, প্রযুক্তি পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে পারে, কিন্তু অতিথির সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা এখনও মানুষের হাতেই রয়েছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাও সমান গুরুত্ব পায়।
শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাও আইআইএইচএম-এর শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। দেশ-বিদেশে ইন্টার্নশিপ, শিল্প প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা সফরের সুযোগ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেয়। ফ্রান্স, ইতালি, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে শিক্ষা সফর এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক দরজা খুলে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সুইজারল্যান্ড, কানাডা, যুক্তরাজ্য-সহ একাধিক দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত BSc (Hons) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান।
বিশ্বের তরুণ রন্ধনশিল্পীদের এক মঞ্চে আনার লক্ষ্যেও আইআইএইচএম-এর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ Young Chef Olympiad। ৬০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক কুলিনারি ইভেন্ট হিসেবে পরিচিত।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও আইআইএইচএম-এর সাফল্য উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ হাজারেরও বেশি প্রাক্তনী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল হোটেল, এয়ারলাইনস, ক্রুজ, রিসর্ট এবং আতিথেয়তা শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দক্ষ পেশাদারদের জন্য বছরে প্রায় ২৪ লক্ষ থেকে ৫৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতনের সুযোগও এই শিল্পের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যাঁরা বিশ্বমানের কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের কাছে আইআইএইচএম শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং আন্তর্জাতিক পেশাজীবনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?