স্বপ্ন ভাঙেনি শর্মিলার, অপমানের জবাব দিলেন কমনওয়েলথের সোনায়

স্বপ্ন ভাঙেনি শর্মিলার! জীবনের কঠিনতম লড়াইয়ের পরও হার মানেননি শর্মিলা ধনকর। ছোটবেলায় পোলিয়োর কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, চরম আর্থিক কষ্ট, বিয়ের পর নির্যাতন— একের পর এক প্রতিকূলতা এসেছিল তাঁর জীবনে। কিন্তু…

July 28, 2026
0 min read

স্বপ্ন ভাঙেনি শর্মিলার!

জীবনের কঠিনতম লড়াইয়ের পরও হার মানেননি শর্মিলা ধনকর। ছোটবেলায় পোলিয়োর কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, চরম আর্থিক কষ্ট, বিয়ের পর নির্যাতন— একের পর এক প্রতিকূলতা এসেছিল তাঁর জীবনে। কিন্তু সেই সব বাধাকে পিছনে ফেলে অবশেষে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে নিজের নাম ইতিহাসে লিখে ফেললেন ভারতের এই প্যারা অ্যাথলিট।

মেয়েদের শটপাট এফ৫৭ বিভাগে ৯.৮১ মিটার দূরত্বে ছুড়ে সোনা জেতেন শর্মিলা। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ী প্রথম ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

শর্মিলার লড়াই শুরু হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই। মাত্র দু’বছর বয়সে ডান পায়ে পোলিয়ো হয় তাঁর। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করানো সম্ভব হয়নি। কৃষক বাবার সংসারে খাবার জোগাড় করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শর্মিলা জানিয়েছেন, তাঁর মা দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং পরিবারের জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন।

১৯ বছর বয়সে বিয়ে হলেও সুখের মুখ দেখতে পারেননি তিনি। শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে নানা অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়। যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর আরও সমস্যার সম্মুখীন হন। শর্মিলার অভিযোগ, পুত্রসন্তান না হওয়ায় তাঁকে অপমান করা হয়েছিল এবং এক রাতে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতনের পর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

সেই কঠিন সময়েও ভেঙে পড়েননি শর্মিলা। দীর্ঘ ছ’বছর বাপের বাড়িতে থাকার পর নতুন করে জীবন শুরু করেন। দ্বিতীয় স্বামী অজিত সিংহের উৎসাহেই প্যারা স্পোর্টসের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন লড়াই।

প্রশিক্ষক টেক চাঁদ এবং দেবেন্দ্রের কাছে অনুশীলন করে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন শর্মিলা। ২০২১ সালে প্যারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেকেই জাতীয় রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন তিনি।

এর পর কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে অংশ নিলেও প্রথম দিকে পদক হাতছাড়া হয়েছিল। কিন্তু এবার আর সুযোগ নষ্ট করেননি। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তাঁর হাতে উঠল কাঙ্ক্ষিত সোনার পদক।

শর্মিলার কথায়, এই জয় শুধু তাঁর নিজের নয়, সেই সব মেয়েদের জন্য যারা অবহেলার শিকার হয়। তাঁর বিশ্বাস, মেয়েদের যদি সামান্য সুযোগ ও সমর্থন দেওয়া হয়, তা হলে তারাও অনেক বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।

অতীতের কষ্ট, অপমান আর লড়াইকে শক্তিতে পরিণত করে শর্মিলা প্রমাণ করেছেন— পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *