‘ককরোচ’দের পর এ বার ‘কাঁকড়া’! ই-২০ জনতা পার্টির উত্থানে ইথানল-পেট্রল বিতর্কে নতুন মোড়

ই-২০ জনতা পার্টির উত্থানে ইথানল-পেট্রল বিতর্কে নতুন মোড়! সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক দিন আগেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এসেছে নতুন এক…

July 27, 2026
1 min read

ই-২০ জনতা পার্টির উত্থানে ইথানল-পেট্রল বিতর্কে নতুন মোড়!

সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক দিন আগেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এসেছে নতুন এক সংগঠন— ই-২০ জনতা পার্টি (E20 Janata Party বা EJP)। প্রতীক হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে কাঁকড়াকে। ইতিমধ্যেই এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এই গোষ্ঠী, যার মূল দাবি পেট্রলে ইথানল মিশ্রণ সংক্রান্ত নীতিতে আরও স্বচ্ছতা আনা।

সংগঠনটির দাবি, তারা ইথানল মিশ্রণের সরাসরি বিরোধিতা করছে না। বরং সাধারণ মানুষ যাতে জ্বালানি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পান এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি বেছে নিতে পারেন, সেই অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। তাদের বক্তব্য, প্রতিটি পেট্রল পাম্পে বিশুদ্ধ পেট্রলও বিক্রির ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং জ্বালানিতে ঠিক কত শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।

ই-২০ জনতা পার্টি তাদের প্রচারে মিম, ব্যঙ্গ এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেনকে হাতিয়ার করেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতোই ব্যতিক্রমী প্রতীক ও প্রচার কৌশল ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি নেটমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও সংগঠনের নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সংগঠনটির অন্যতম দাবি, জ্বালানির মিশ্রণ, তার খরচ, সম্ভাব্য সুবিধা এবং গাড়ির মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, দূষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের উপর তার প্রভাব নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সমীক্ষা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারের দাবি, ই-২০ জ্বালানি আমদানি-নির্ভরতা কমিয়েছে, কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করেছে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে পেট্রলে ইথানলের পরিমাণ ছিল মাত্র ১.৫৩ শতাংশ, যা বর্তমানে ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্বীকার করেছে যে ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারে কিছু ক্ষেত্রে গাড়ির মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। যদিও তাদের দাবি, এর অর্থ এই নয় যে ইথানল মিশ্রণের ফলে জ্বালানির দাম কমবে বা বাড়বে।

অন্যদিকে, বহু গাড়ির মালিকের অভিযোগ, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়ছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও সর্বজনস্বীকৃত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।

এই আবহে ই-২০ জনতা পার্টির উত্থান ইথানল নীতি নিয়ে জনমতকে আরও উস্কে দিয়েছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবের রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনাতেও প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *