সংসদ অভিযানে র্যাফের ভূমিকায় প্রশ্ন!!
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন এবং ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান ঘিরে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)-এর ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। আন্দোলনকারীদের সামাল দিতে গিয়ে বাহিনীর একাধিক সদস্য বিধি মেনে কাজ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিষয়েই সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অধস্তন আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিয়েছেন র্যাফের ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) সীমা ধুন্ধিয়া।
২০ জুলাই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে এগোনোর সময় প্রতিবাদীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় পেলেট বা ছররা গুলিতে তিন জন আহত হন বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর্যালোচনায় আইজি নাকি জানিয়েছেন, বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের স্পষ্ট অভাব ছিল এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও একরকম নীতি অনুসরণ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারেরা তাঁদের অধীনে থাকা র্যাফ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করেননি। এমনকি রাজধানীর কোন এলাকায় কত সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সদর দফতরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়নি বলে বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আইজি।
র্যাফ মূলত সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর বিশেষ বাহিনী, যার কাজ হিংসাত্মক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখা। সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন, প্রতিটি বড় অভিযানের পর বাহিনী নিজেদের কাজের মূল্যায়ন করে এবং কোথায় কী ত্রুটি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়।
অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আইজি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর মতে, জম্মু ও কাশ্মীরের মতো সংঘাতপ্রবণ এলাকায় কাজ করা জওয়ানদের সরাসরি দিল্লির মতো নাগরিক পরিবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়। কারণ, রাজধানী বা অন্য রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সেখানে অনেক বেশি সংযম ও মাপা পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি নির্দেশ দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লিতে কোনও র্যাফ সদস্য পেলেট গান বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অস্ত্র ব্যবহার করবেন না। পাশাপাশি অভিযানের সময় বহু সদস্যের মাথায় হেলমেট ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়াও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, র্যাফের বিশেষ প্রশিক্ষণ না পাওয়া কোনও সদস্যকে ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে পাঠানো যাবে না। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে আইজি-র বার্তা— আন্দোলনকারীদের প্ররোচনা বা কটূক্তির মুখেও ধৈর্য, সংযম এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?