কুণালদের আটক ঘিরে রাস্তায় মমতা!
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিলের অনুমতি না পেয়ে শনিবার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠল পদ্মপুকুর। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশের পর জমায়েত সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাধে আন্দোলনকারীদের। সেই সময় কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আটক করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুপুরে পদ্মপুকুর থেকে মৌলালি পর্যন্ত মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল কালীঘাটপন্থী টিএমসিপির। তবে শেষ মুহূর্তে পুলিশ অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয় বলে অভিযোগ সংগঠনের। এরপর তারা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত শুক্রবারের অশান্তির প্রেক্ষিতে নতুন করে মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে।
আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশ পদ্মপুকুর থেকে জমায়েত সরানোর উদ্যোগ নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেই সময় কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়েই ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরিস্থিতির মধ্যে পদ্মপুকুর থেকে স্কুটিতে চেপে বেরিয়ে পড়েন মমতা। প্রথমে লালবাজার যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে যান। পরে ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, পুলিশ আগে মিছিলের অনুমতি দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেছে। তাঁর প্রশ্ন, অন্য রাজনৈতিক দল কর্মসূচির অনুমতি পেলে তৃণমূলের ছাত্র-যুবদের কেন বঞ্চিত করা হবে?
মমতার দাবি, আদালতের নির্দেশের পরে মিছিল নয়, শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভই চলছিল। অথচ পুলিশ জোর করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলে। তিনি বলেন, “তৃণমূল কি অচ্ছুত? এ ভাবে আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।”
পুলিশের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় একের পর এক ট্রাফিক সিগন্যাল আটকে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হাঁটা, দৌড় এবং স্কুটির সাহায্যে তিনি পদ্মপুকুরে পৌঁছন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকেও পুলিশ ঘিরে ধরে দুর্ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, হাই কোর্টের নির্দেশের পর ওই জমায়েত আইনসম্মত ছিল না। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পরও নিজের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অনড় মমতা। তিনি জানিয়েছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি দিল্লি যাবেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?