৩৬ দিনের আন্দোলনের ইতি!
দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর অবশেষে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহারের ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের পর সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, তাঁদের উত্থাপিত মূল দাবিগুলি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। সেই কারণেই আপাতত আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁরা জানান, সরকারের সদিচ্ছার উপর আস্থা রেখেই যন্তর মন্তরের অবস্থান তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারকে প্রতিশ্রুতিগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও স্পষ্ট করে দেন তাঁরা।
এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে। ৬ জুন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পরে ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান শুরু হয়। ধীরে ধীরে এই আন্দোলনে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সমর্থন বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর শনিবার তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
বৈঠকের আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আন্দোলনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শুরু থেকেই তাঁর পদত্যাগ ছিল সিজেপি-র প্রধান দাবি। তবে সংগঠন জানিয়েছে, শুধু মন্ত্রীর ইস্তফা নয়, অন্য দাবিগুলিও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। তাঁর কথায়, সরকার শুধু এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিই দেয়নি, প্রতিটি মামলার নথিও আন্দোলনকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সিজেপি-র আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আলোচনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত খসড়া প্রস্তাবও সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা জানিয়েছেন, সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে সিজেপি-র সঙ্গে আরও বৈঠক করা হবে।
আশুতোষ রাঙ্কা জানান, নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের জন্য সম্মানজনক ক্ষতিপূরণের দাবিও সরকার নীতিগত ভাবে মেনে নিয়েছে। নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস মিলেছে।
সিজেপি-র বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত কোনও রকম আপসের ফল নয়। বরং সরকার তাদের দাবিগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করায় এবং লিখিত আশ্বাস দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তারা আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করছে। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনের পথে নামার ইঙ্গিতও দিয়েছে সংগঠন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?