সোনমের অনশন ভাঙার নেপথ্যে কি অমিত শাহের কৌশল?
সমাজসৈনিক ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন শেষ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে আইনি সংশোধনের পথে এগিয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর সংশোধনী বিলের খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগের রাতেই আশ্বাস দিয়েছিলেন, চলতি বাদল অধিবেশনেই এই বিল সংসদে আনা হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপ কেবল আইন সংশোধনের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে যন্তর মন্তরে চলা ছাত্র আন্দোলনের চাপও এর নেপথ্যে কাজ করেছে।
শুক্রবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। যদিও বৈঠকে সব দাবির সমাধান হয়নি, তবু কোনও পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করেনি। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তাঁরা সরে আসছেন না।
তবে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা ছাড়াও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের। প্রথমত, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা ও এফআইআর প্রত্যাহার। বৈঠকের পরে সিজেপি দাবি করে, কেন্দ্র এই দুই দাবিই মেনে নিয়েছে।
অন্য দিকে, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও নড্ডা বলেন, বৈঠকটি “সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে” হয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ৬ জুন থেকে যন্তর মন্তরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে সিজেপি। সেই আন্দোলনের সঙ্গেই ২৮ জুন অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। পরে পুলিশ তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে পরে তাঁকে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও তিনি অনশন চালিয়ে যান। অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ২৬তম দিনে অনশন প্রত্যাহার করেন।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অনশন ভাঙার আগের ২৪ ঘণ্টায় কেন্দ্রের শীর্ষস্তরে তৎপরতা অনেকটাই বেড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। যদিও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী মোদীও ওই সময় সমাজমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীর অপসারণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। পরে সোনম ওয়াংচুক একটি ভিডিয়োবার্তায় জানান, সরকারের লিখিত আশ্বাস এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এখনও আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থানে অনড়। ফলে অনশন শেষ হলেও নিট-কাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলনের বিতর্ক আপাতত থামছে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?