নড্ডার বাড়ি বা দফতরে বৈঠকের প্রস্তাব কেন্দ্রের!
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলতে থাকা আন্দোলনের মধ্যেই ফের আলোচনার আহ্বান জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বৃহস্পতিবার জানান, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকার যে কোনও সময় বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং তিনি নিজে আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন। বৈঠক হতে পারে নড্ডার সরকারি বাসভবন বা দফতরে।
তবে এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই খারিজ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের মন্ত্রীদের বাড়ি বা অফিসে নয়, নিরপেক্ষ কোনও জায়গায় অথবা যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলেই আলোচনা হতে হবে।
জিতেন্দ্র সিংহ জানান, বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট চার বার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় ডেকেছে। তিনি বলেন, “সরকার ছাত্র-যুবদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক। আপনাদের সুবিধামতো যে কোনও সময়ে আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আসুন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজি।”
কিন্তু সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার নড্ডার আমন্ত্রণপত্র যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে পৌঁছলেও তা গ্রহণ করেননি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, আলোচনা যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তা হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরই আন্দোলনস্থলে এসে কথা বলা উচিত। আন্দোলনকারীদের নেতা অভিজিৎ দীপ বলেন, “মন্ত্রীদের বাড়িতে গিয়ে আলোচনা নয়। জনগণের সামনে, নিরপেক্ষ পরিবেশে কথাবার্তা হোক।”
সিজেপি-র অভিযোগ, একদিকে সরকার আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি না হলে আলোচনার কোনও অর্থ নেই।
এর আগে নড্ডা এক দফা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। দাবিগুলি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি।
এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘোষণার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি সিজেপি।
শিক্ষায় দুর্নীতি ও নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক এবং কয়েক জন ছাত্রছাত্রী।
গত সোমবার সিজেপি-র ডাকা সংসদ ভবন অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে লাঠিচার্জ চালায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন এবং অনশন— দু’টিই চলবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?