লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাসেও থামেনি সিজেপি-র মিছিল!
সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনার আবহ তৈরি করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিযান। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা, লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। পরে অবশ্য তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। দিনের শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসে নিজেদের তিন দফা দাবি জানায় সিজেপি নেতৃত্ব।
সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ায় সংসদ চত্বরে আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিযানের ডাক দেয় সিজেপি। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে এগোতেই শ্রমশক্তি ভবনের কাছে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয় এবং কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তবুও আন্দোলনকারীদের একাংশ নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে সংসদের প্রধান ফটকও বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সংসদ ভবনের বাইরে তাঁদের থামিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। তবে সিজেপি-র অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, এই মিছিলের জন্য আগে থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই হাজার হাজার ছাত্র-যুব কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং সংবিধানের কপি। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়েছে বলে প্রথমে দাবি করেছিল দলটি। যদিও পরে দিল্লি পুলিশ সেই দাবি অস্বীকার করে। একই কর্মসূচিতে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদবও উপস্থিত ছিলেন। সমাজবাদী পার্টির অভিযোগ, ডিম্পল যাদব-সহ দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও পুলিশ আটক করেছিল।
দিনের শেষভাগে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। সিজেপি-র দাবি, সরকারের পক্ষ থেকেই আলোচনার প্রস্তাব আসে। এরপর দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেই বৈঠকে সিজেপি কেন্দ্রের কাছে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরে। প্রথমত, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, নিট পরীক্ষাকে ঘিরে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বৈঠক শেষে নড্ডা আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন বলে সিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি দলটি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?