ফাইনালের আগে আবেগঘন বার্তা মেসির!
footফাইনালের আগে গোটা আর্জেন্টিনা শিবিরকে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করলেন অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি। সমাজমাধ্যমে পুরো দলের একটি ছবি পোস্ট করে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেই বার্তাতেই উঠে আসে ঐক্য, ত্যাগ, পরিবারের বন্ধন এবং এমন কিছু ইঙ্গিত, যা অনেকের মতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল মেসির কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। একদিকে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ সেই স্পেন— যে দেশে তাঁর ফুটবলজীবনের সিংহভাগ কেটেছে। বার্সেলোনার জার্সিতে বিশ্বজয়ী তারকায় পরিণত হওয়ার স্মৃতি এই ম্যাচকে আরও আবেগময় করে তুলেছে।
ফাইনালের আগে পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে মেসি লেখেন, “একটা পরিবার। শুধু কয়েকটি ট্রফি জেতাই নয়, গত কয়েক বছরের পুরো যাত্রাপথটাই অসাধারণ। প্রতিদিন একসঙ্গে থাকা, কঠিন সময় পেরিয়ে ওঠা, লড়াই করা— প্রতিটি মুহূর্ত আমরা উপভোগ করেছি। আমার সব সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং জাতীয় দলকে পরিবার হিসেবে ধরে রাখতে যাঁরা প্রতিদিন পরিশ্রম করেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রবিবার যা-ই হোক না কেন, এই দল এমন একটি গল্প লিখে ফেলেছে, যা কখনও মুছে যাবে না।”
এই কথাগুলিই অনেক সমর্থকের কাছে বিদায়ের সম্ভাব্য ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছে। যদিও মেসি কোথাও সরাসরি অবসরের কথা বলেননি, তবু “এই গল্প কখনও মুছে যাবে না” কিংবা “যা-ই হোক না কেন” ধরনের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন অধিনায়ক। তিনি লিখেছেন, “চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই অসাধারণ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীতের সময় থেকেই আমরা বুঝতে পারছিলাম, এই ম্যাচ দেশের মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার মা ও পরিবারের সদস্যরা দেশের মানুষের উদ্যাপনের ছবি আমাকে পাঠিয়েছেন। তাঁদের এই আনন্দ দিতে পেরে আমি গর্বিত।”
ফাইনালের আগে নিজের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেছেন মেসি। তাঁর বক্তব্য, “এক বছর ধরে আমরা এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর পরিশ্রম করেছি, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই। আমরা কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করিনি। নিজেদের ফুটবল আর দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছি। তার ফলেই আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছি।”
এটি মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে পূরণ হয় সেই আক্ষেপ। এবার স্পেনের বিরুদ্ধে আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। ফাইনালের আগে তাঁর এই আবেগঘন বার্তা আর্জেন্টিনা শিবিরকে যেমন উজ্জীবিত করেছে, তেমনই সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— এ কি তবে মেসির বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষ অধ্যায়ের ইঙ্গিত?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?