৪৪ বছরের ক্ষত, ফুটবলের মঞ্চে নতুন বিতর্ক: কেন ফকল্যান্ড ইস্যুতে আজও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড?

কেন ফকল্যান্ড ইস্যুতে আজও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা! ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকদের হাতে দেখা যায় "Las Malvinas son Argentinas" (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার। এই…

July 17, 2026
1 min read

কেন ফকল্যান্ড ইস্যুতে আজও মুখোমুখি আর্জেন্টিনা!

ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকদের হাতে দেখা যায় “Las Malvinas son Argentinas” (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার। এই উদ্‌যাপন ঘিরে আবারও সামনে আসে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাস। চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও আবেগের সংঘাত আজও শেষ হয়নি।

কেন ফকল্যান্ড নিয়ে বিরোধ?

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় ইসলাস মালভিনাস) দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটেন এই দ্বীপের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তবে আর্জেন্টিনার দাবি, দ্বীপটি তাদের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে এবং ঐতিহাসিকভাবে এটি তাদেরই অংশ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক স্তরে এই দাবি আরও জোরালো করে। রাষ্ট্রপুঞ্জেও বিষয়টি ওঠে এবং কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালের যুদ্ধ?

১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ‘অপারেশন রোজারিও’ চালিয়ে ফকল্যান্ড দখল করে। সে সময় দেশটির শাসক জেনারেল লিওপোল্ডো গালতিয়েরি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দ্রুত নৌবাহিনী ও সেনা পাঠিয়ে পাল্টা অভিযান শুরু করেন। প্রায় ১০ সপ্তাহের যুদ্ধের পর ১৪ জুন আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এবং ব্রিটেন পুনরায় দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি

  • আর্জেন্টিনার নিহত: প্রায় ৬৪৯ জন
  • ব্রিটেনের নিহত: প্রায় ২৫৫ জন
  • ফকল্যান্ডের নিহত সাধারণ মানুষ: ৩ জন
  • আহত: দুই পক্ষ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার
  • আর্জেন্টিনার ১১ হাজারেরও বেশি সেনা বন্দি হন।

কেন ফুটবলে এই আবেগ এত প্রবল?

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং অসাধারণ একক প্রচেষ্টার গোল ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।

পরে নিজের আত্মজীবনীতে মারাদোনা লিখেছিলেন, ইংল্যান্ডকে হারানো ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধে পরাজয়ের এক ধরনের প্রতীকী জবাব। সেই থেকেই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফুটবল ম্যাচ কেবল খেলার লড়াই নয়, দুই দেশের ইতিহাস ও আবেগেরও প্রতিফলন।

সাম্প্রতিক বিতর্ক

২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ও সমর্থক “Las Malvinas son Argentinas” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখেন এবং তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এখন ফকল্যান্ড কার নিয়ন্ত্রণে?

বর্তমানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনের Overseas Territory হিসেবে পরিচালিত হয়। ২০১৩ সালের গণভোটে প্রায় ৯৯.৮ শতাংশ বাসিন্দা ব্রিটিশ শাসনের পক্ষেই মত দেন। ফলে আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপটির দাবি জানালেও বাস্তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই রয়েছে।

এই কারণেই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফুটবল ম্যাচে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আজও বারবার ফিরে আসে। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, জাতীয় পরিচয় এবং বহু দশকের রাজনৈতিক বিরোধ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *