ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্কে মুখ খুললেন সৌরভ!
পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট সংস্থা (সিএবি)-র যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচন ঘিরে চলা বিতর্কে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, ভোট দেওয়া প্রত্যেক সদস্যের সাংবিধানিক অধিকার এবং সেই অধিকার রক্ষার পক্ষেই সংস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থাগুলির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিএবি যে নিয়মে চলছে, তা নতুন কিছু নয়।
সৌরভের বক্তব্য, কোনও সদস্যের বয়স ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও বা তিনি সংস্থার প্রশাসনে দীর্ঘ সময় কাজ করলেও, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার বজায় থাকে। শুধু সিএবি নয়, দেশের একাধিক রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থাতেও একই বিধি অনুসরণ করা হয়। তাই ভোটের অধিকার নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি না করে প্রচলিত নিয়মকে সম্মান জানানো উচিত বলেই তাঁর মত।
এই বিতর্কের সূত্রপাত যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রাখেন ইলেক্টোরাল অফিসার। এরপর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) ডাকা হয়।
সভায় প্রায় একশো সদস্য উপস্থিত ছিলেন। যেসব জেলা ক্রিকেট সংস্থা ও ক্লাব নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, তাদের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ক্রীড়া দফতরের একজন প্রতিনিধিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া দাবি করেছেন, ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্য বা যাঁরা সংস্থার প্রশাসনে টানা নয় বছর দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের ভোটাধিকার বা প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, বর্তমান প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সেই অভিযোগ মানতে নারাজ বর্তমান সিএবি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, ২০২০ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা থেকে শুরু করে পরবর্তী সমস্ত এজিএম ও এসজিএম একই নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়েছে। ফলে বয়স বা প্রশাসনিক মেয়াদের কারণে ভোটাধিকার খর্ব করার প্রশ্নই ওঠে না।
সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড-সহ দেশের বিভিন্ন ক্রিকেট সংস্থাতেও একই ধরনের নিয়ম কার্যকর রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে কেউ যদি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হন, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার তাঁরও রয়েছে।
সৌরভের মন্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচন নিয়ে মতভেদ থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ভোটাধিকারের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিএবি। এখন দেখার, বিতর্কের পরবর্তী অধ্যায়ে বিষয়টি আইনি পথে গড়ায়, নাকি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বেরিয়ে আসে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?