‘চাদরের তলায় টাকা রেখে আসতেন, মানুষের দুঃখ ছিল তাঁর নিজের’— জ়ুবিনকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ পরিচালকের

জ়ুবিনকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ পরিচালকের! অসমের জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গার্গ শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ— এমনটাই জানালেন পরিচালক প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরিচালিত একাধিক ছবিতে গান গেয়েছিলেন জ়ুবিন।…

July 14, 2026
1 min read

জ়ুবিনকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ পরিচালকের!

অসমের জনপ্রিয় গায়ক জ়ুবিন গার্গ শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ— এমনটাই জানালেন পরিচালক প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরিচালিত একাধিক ছবিতে গান গেয়েছিলেন জ়ুবিন। সেই দীর্ঘ পরিচয়ের সূত্রেই কাছ থেকে দেখেছিলেন শিল্পীর মানবিক দিক। সেই স্মৃতিই এবার তুলে ধরবেন ‘লভ ইউ জ়ুবিনদা’ ছবিতে।

‘ইডিয়ট’, ‘খোকা ৪২০’ এবং ‘খিলাড়ি’-সহ একাধিক ছবির গানের রেকর্ডিংয়ের সূত্রে প্রায়ই গুয়াহাটি যেতেন প্রীতম। তাঁর কথায়, জ়ুবিন ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক আতিথেয়। রেকর্ডিং শেষ হলে নিজে রান্না করে খাওয়াতেন, শহরের নানা জায়গা ঘুরিয়ে দেখাতেন, এমনকি গভীর রাতেও নিজের গাড়ি চালিয়ে হোটেলে পৌঁছে দিতেন অতিথিদের। রেকর্ডিংয়ের ফাঁকে নিজের নতুন সুরও শুনিয়ে মতামত নিতেন।

তবে জ়ুবিনের যে দিকটি তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছিল, তা তাঁর নিঃস্বার্থ মানবিকতা। প্রীতম জানান, পারিশ্রমিক হাতে পাওয়ার পর রাতের শহরে বেরিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল জ়ুবিনের অভ্যাস। অনেক সময় ফুটপাথে ঘুমিয়ে থাকা মানুষদের চাদরের তলায় নিঃশব্দে টাকা গুঁজে দিয়ে চলে আসতেন। কেউ যাতে বুঝতেও না পারে, সে দিকেও খেয়াল রাখতেন।

একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে পরিচালক বলেন, এক বৃদ্ধার ছোট্ট দোকানে পিঠে খেতে গিয়ে হয়তো ১০০ টাকার খাবার খেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু জ়ুবিন পকেট থেকে টাকা বের করে না গুনেই কয়েক হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছিলেন। শীতের রাতে গরিব মানুষের গায়ে নিজের হাতে কম্বল বা চাদর জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও তিনি একাধিকবার দেখেছেন বলে জানান।

প্রীতমের মতে, জ়ুবিনের কণ্ঠ যেমন অসংখ্য গানকে জনপ্রিয় করেছে, তেমনই তাঁর উদারতা অসংখ্য মানুষের জীবন ছুঁয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর মন। আর সেই দিক থেকে জ়ুবিন ছিলেন বিরল ব্যক্তিত্ব।

২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল প্রীতমের। এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, গায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে একটি ছবি নির্মাণ করবেন। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হচ্ছে ‘লভ ইউ জ়ুবিনদা’। ছবি তৈরির আগে জ়ুবিনের স্ত্রী গরিমা শইকিয়ার অনুমতিও নিয়েছেন তিনি। প্রীতম জানান, আজও জ়ুবিনের কথা উঠলে আবেগ সামলাতে পারেন না গরিমা।

জ়ুবিনের প্রয়াণের পর অসমজুড়ে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল, তা এখনও ভুলতে পারেননি পরিচালক। তাঁর দাবি, বহু মানুষ স্বেচ্ছায় এক মাস আমিষ খাওয়া বন্ধ রেখেছিলেন, অনেক জায়গায় মাংসের দোকানও খোলেনি। মানুষের এই ভালোবাসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জ়ুবিন শুধু গান গাইতেন না, মানুষের দুঃখ-দুর্দশার খবর রাখতেন। কার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, কার মেয়ের বিয়ে আটকে আছে, কার চিকিৎসার টাকা নেই— সব খবরই তাঁর কাছে পৌঁছত। নীরবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তিনি।

প্রীতমের বিশ্বাস, শারীরিকভাবে জ়ুবিন আর না থাকলেও অসমবাসীর হৃদয়ে তিনি আজও জীবন্ত। সেই মানুষটিকেই বড় পর্দায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই তাঁর ছবি তৈরির মূল উদ্দেশ্য।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *