লর্ডসে ইতিহাস গড়ল হরমনপ্রীতের ভারত
লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে নতুন অধ্যায় লিখল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো এই ভেন্যুতে আয়োজিত মহিলা টেস্টে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। শুধু জয়ই নয়, এই ম্যাচে লর্ডসের বিখ্যাত অনার্স বোর্ডেও নাম তুলে নিলেন ভারতের যস্তিকা ভাটিয়া ও ক্রান্তি গৌড়।
১৮৮৪ সাল থেকে লর্ডসে টেস্ট ক্রিকেট হলেও ১৪১ বছর পর প্রথমবার সেখানে অনুষ্ঠিত হল মহিলাদের টেস্ট ম্যাচ। আর সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই ভারতের দাপুটে পারফরম্যান্স ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়ে দিল।
প্রথম ইনিংসে ভারত তোলে ২৮৫ রান। হরমনপ্রীত কৌর ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মা ৫৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। জবাবে ইংল্যান্ড মাত্র ১৭০ রানে অলআউট হয়ে যায়। ১১৫ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত আরও শক্ত ভিত গড়ে তোলে। স্মৃতি মন্ধানার ৭০, যস্তিকা ভাটিয়ার অনবদ্য ১১৩ এবং রিচা ঘোষের অপরাজিত ৫০ রানের সৌজন্যে ৭ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।
ফলে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড়ায়। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের সামনে সেই লক্ষ্য অধরাই থেকে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। ২৭০ রানের দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।
এই টেস্টে ব্যক্তিগত কীর্তিতেও উজ্জ্বল ভারতীয় ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে লর্ডসে টেস্ট শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন যস্তিকা ভাটিয়া। একই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে লর্ডসে মহিলাদের টেস্টে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার হন ক্রান্তি গৌড়। তাঁদের দু’জনের নামই জায়গা করে নিয়েছে লর্ডসের সম্মানজনক অনার্স বোর্ডে।
ইংল্যান্ডের স্পিনার সোফি একলেস্টোনও দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে অনার্স বোর্ডে নাম লেখান। অন্যদিকে, মাত্র ১৭ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হওয়ায় স্মৃতি মন্ধানা ৮৩ রান করেও সেই তালিকায় জায়গা পাননি।
ভারতের বোলিং আক্রমণও ছিল অসাধারণ। প্রথম ইনিংসে ক্রান্তির পাশাপাশি স্নেহ রানা ২টি এবং সায়লী সাতঘরে ২টি উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে রানা চার উইকেট তুলে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে দেন। ক্রান্তি, সায়লী এবং দীপ্তি শর্মা দুটি করে উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উইকেটের পিছনেও উজ্জ্বল ছিলেন রিচা ঘোষ, যিনি দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনটি ক্যাচ নেন। যস্তিকাও শতরানের পাশাপাশি দুটি ক্যাচ ধরে অলরাউন্ড অবদান রাখেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম ইনিংসে অ্যামি জোন্স ৫২ এবং অধিনায়ক ন্যাট শিভার-ব্রান্ট ৪৪ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে জোন্স ৫৪ ও একলেস্টোন ৫০ রান করলেও তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও লর্ডসের ঐতিহাসিক এই টেস্ট জয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল। ইংল্যান্ডের মাটিতে এই সাফল্য শুধু একটি জয় নয়, বরং ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগতির এক স্মরণীয় নিদর্শন হয়ে থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?