বারুইপুর এনকাউন্টারে সিআইডি তদন্ত!
বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার রাজ্য পুলিশের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও চলবে। ফলে এনকাউন্টারের রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা দুই পৃথক প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে, প্রায় পৌনে ১টা নাগাদ, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে অপরাধস্থলে পৌঁছেছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। পুলিশের দাবি, সেই সময় ক্যানিং পুলিশ সার্কেলের ইনচার্জ রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। তাঁকে আটকাতে গেলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালান বলে অভিযোগ।
পুলিশের বক্তব্য, ওই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার স্বার্থে বারুইপুর থানার পুলিশ সার্কেলের ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালান। সেই গুলিতে প্রভাস গুরুতর জখম হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। সূত্রের খবর, তাঁর শরীরে দুটি গুলি লাগে— একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের উপরের অংশে।
নিয়ম অনুযায়ী, যে পুলিশ জেলা এনকাউন্টারের সঙ্গে যুক্ত, সেই জেলা নিজে এই ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে। পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে, যা স্বাধীনভাবে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করবে।
এনকাউন্টারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসকদলের একাংশ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, অন্য অংশ এবং বিরোধী দলগুলি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে। কেউ কেউ এই ঘটনাকে উত্তরপ্রদেশে অতীতে হওয়া বিতর্কিত এনকাউন্টারগুলির সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছেন।
এখন সিআইডি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, উপস্থিত পুলিশকর্মীদের বয়ান, ফরেন্সিক তথ্য, অস্ত্র ব্যবহারের নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে নির্ধারণ করবে, পুলিশের দাবি অনুযায়ী আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছিল কি না এবং পুরো ঘটনাক্রমে কোনও নিয়মভঙ্গ বা অসঙ্গতি ছিল কি না। বিচারবিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টও এই বহুল আলোচিত ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?