বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রভাসকে ঘিরে নতুন তথ্য!
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘিরে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তের শুরু থেকে দেহ উদ্ধারের ঘটনা পর্যন্ত প্রভাসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ নাবালিকাকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশ এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে। সেখানে দেখা যায়, নীল টি-শার্ট ও লাল টুপি পরা এক যুবকের সঙ্গে নাবালিকাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। সেই ফুটেজের সূত্র ধরেই পুলিশ ওই যুবককে শনাক্ত করে। পরে তিনি প্রভাস মণ্ডল বলে চিহ্নিত হন এবং প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হন।
পুলিশি জেরার পর প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। সেই সময় একটি পুকুরে নেমে তিনি কোথায় বস্তাবন্দি দেহ ফেলা হয়েছিল, তা দেখিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তাঁর দেখানো স্থান থেকেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং প্রভাসকে মারধরও করে বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস পালানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তিনি এক পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রভাসের জেরার ভিত্তিতেই তদন্তে আরও অগ্রগতি হয়। পরে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লা-সহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রত্যেককে আলাদা করে জেরা করার পর ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দা প্রভাসের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান। বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। ঘটনায় নাম জড়ানোর পর তিনি সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরিবারের দাবি, প্রভাসের কোনও স্থায়ী পেশা ছিল না। কখনও ভ্যান চালাতেন, আবার বিভিন্ন অস্থায়ী কাজ করতেন। তাঁর মায়ের কথায়, তিনি নেশার অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং পরিবারের কথা খুব একটা শুনতেন না। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই মামলার অন্য কয়েকজন অভিযুক্তও তাঁর নেশার সঙ্গী ছিলেন।
এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও অব্যাহত। বুধবার রাজভবনে গিয়ে বারুইপুরের ঘটনার একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি প্রমাণ সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?