অংশুলার বিয়েতে একসঙ্গে কপূর পরিবার!
প্রযোজক বনি কপূরের বড় মেয়ে অংশুলা কপূরের বিয়ে ঘিরে এখন উৎসবের আবহ কপূর পরিবারে। বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ছাদের নিচে হাজির হয়েছেন পরিবারের প্রায় সব সদস্য। বাবা বনি কপূর, ভাই অর্জুন কপূর, বোন জাহ্নবী ও খুশি কপূরের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অনিল কপূর, সঞ্জয় কপূর, সোনম কপূর, মহীপ কপূর-সহ পরিবারের আরও অনেকে। সেই ছবি এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
এই পারিবারিক মিলনমেলার মধ্যেই আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে কপূর পরিবারের বহু বছরের সম্পর্কের টানাপোড়েনের গল্প। দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডে শোনা যায়, একসময় বনি কপূরের সঙ্গে তাঁর দুই ভাই অনিল ও সঞ্জয়ের সম্পর্ক আগের মতো ছিল না। যদিও পরিবারের কেউ প্রকাশ্যে এই বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য করেননি।
বনির প্রযোজিত একাধিক ছবির হাত ধরেই অনিল কপূরের কেরিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘রূপ কি রানি চোরোঁ কা রাজা’ এবং ‘জুদাই’-এর মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন দুই ভাই। বিশেষ করে ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ আজও হিন্দি সিনেমার অন্যতম ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রূপ কি রানি চোরোঁ কা রাজা’ বক্স অফিসে বড় ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়ায়। ছবির বিপুল বাজেটের কারণে বনি কপূরকে দীর্ঘদিন আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পরে তিনি নিজেও স্বীকার করেছিলেন, সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বহু বছর লেগেছিল।
এর কিছু বছর পর বনির ব্যক্তিগত জীবনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। প্রথম স্ত্রী মোনা শৌরীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৯৬ সালে তিনি অভিনেত্রী শ্রীদেবীকে বিয়ে করেন। সেই সময় পরিবারের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল বলেই বিভিন্ন সময়ে বলিউড মহলে আলোচনা হয়েছে। অনিল ও সঞ্জয় নাকি মোনা শৌরীর সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। যদিও এই বিষয়গুলির বেশিরভাগই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
আর্থিক সংকটের সময় বনি একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ঋণ শোধ করতে তাঁকে সম্পত্তি পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে শ্রীদেবী তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
২০০০ সালের পর তিন ভাইয়ের পেশাগত পথও আলাদা হয়ে যায়। অনিল অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, সঞ্জয় ব্যবসা ও প্রযোজনার দিকে মন দেন, আর বনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা নিয়ে নতুন করে এগোতে শুরু করেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণও বদলেছে। ২০১৮ সালে শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যুর পরে তিন ভাইকে আবার একসঙ্গে দেখা যায়। শেষকৃত্য থেকে শুরু করে পারিবারিক নানা অনুষ্ঠানে তাঁরা একে অপরের পাশে ছিলেন।
অংশুলার বিয়ের সাম্প্রতিক ছবিগুলিও সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুরনো মতভেদ বা গুঞ্জনকে পিছনে ফেলে কপূর পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যাচ্ছে। অন্তত এই মুহূর্তে পরিবারের সবচেয়ে বড় পরিচয়— সম্পর্কের উষ্ণতা এবং একসঙ্গে থাকার আনন্দ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?