বিশ্বকাপ থেকে বিদায়!
বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ বেলজিয়ামের কাছে নাটকীয় হারের পর মাঠের হতাশা এবার ছড়িয়ে পড়ল সেনেগাল শিবিরের অন্দরেও। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় দল থেকে অনির্দিষ্টকালের বিরতির ঘোষণা করলেন মিডফিল্ডার পাপে গিউয়ে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— বর্তমান কোচিং ও টেকনিক্যাল স্টাফ দায়িত্বে থাকলে তিনি আর সেনেগালের হয়ে খেলবেন না।
বুধবার ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজের সিদ্ধান্ত জানান গিউয়ে। তিনি লেখেন, “বিদায় নেওয়ার কারণ নিয়ে দেশে ফিরে আরও বিস্তারিত বলব। তবে এখনই জানিয়ে রাখছি, যত দিন এই টেকনিক্যাল স্টাফ দায়িত্বে থাকবে, তত দিন আমি জাতীয় দল থেকে বিরতি নিচ্ছি।”
গিউয়ের এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ঠিক কী কারণে তিনি এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর ক্ষোভ সরাসরি কোচ পাপে চাওয়ের বিরুদ্ধে কি না, সেটিও পরিষ্কার করেননি তিনি। তবে বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁকে ঘিরে কিছু সিদ্ধান্ত যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল, তার ইঙ্গিত মিলেছে।
ইরাকের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা পাননি গিউয়ে। পরিবর্ত হিসেবে নেমে দুটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। অথচ বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে নকআউট ম্যাচেও তাঁকে শুরু থেকে খেলানো হয়নি। ৬৬ মিনিটে মাঠে নামানো হয় তাঁকে।
সেই ম্যাচে হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল সেনেগাল। কিন্তু শেষ পাঁচ মিনিটে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিয়েলেম্যানস গোল করে সমতা ফেরান। এরপর অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে VAR-এর সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন টিয়েলেম্যানস। অবিশ্বাস্যভাবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় সেনেগাল।
ম্যাচের পর গিউয়েকে দেরিতে নামানোর প্রসঙ্গে কোচ পাপে চাও বলেন, ফুটবলার ক্লান্ত ছিলেন বলেই তাঁকে বেশি সময় খেলানো হয়নি। তবে সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ গিউয়ে। মিক্সড জ়োনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম। কোচ তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা তাঁর অধিকার। কিন্তু কেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার উত্তর কোচই দিতে পারবেন।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই পরিষ্কার, গিউয়ে ও কোচিং স্টাফের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই সেনেগাল ফুটবলে নতুন সংকট দেখা দিল। এখন দেখার, ফুটবল ফেডারেশন পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং গিউয়েকে ফেরাতে কোচিং স্টাফে কোনও পরিবর্তনের পথে হাঁটে কি না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?