রঞ্জি ট্রফির পিচ থেকে ছোটা রাজনের গ্যাং! এনকাউন্টারে মৃত্যু প্রাক্তন ক্রিকেটারের, অভিযুক্ত ছিলেন ১০ নাবালিকাকে ধর্ষণে

রঞ্জি ট্রফির পিচ থেকে ছোটা রাজনের গ্যাং! এক সময় পঞ্জাব ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতিমান ফাস্ট বোলার ছিলেন সৎপাল ওরফে সত্তু। রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন, স্বপ্ন দেখতেন ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্রিকেটে বড় কেরিয়ার গড়ার। কিন্তু…

June 29, 2026
1 min read

রঞ্জি ট্রফির পিচ থেকে ছোটা রাজনের গ্যাং!

এক সময় পঞ্জাব ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতিমান ফাস্ট বোলার ছিলেন সৎপাল ওরফে সত্তু। রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন, স্বপ্ন দেখতেন ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্রিকেটে বড় কেরিয়ার গড়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর তাঁর জীবন এমন অন্ধকার পথে মোড় নেয়, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশের অন্যতম কুখ্যাত অপরাধীতে পরিণত করে। উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গত চার মাসে ১০ জনেরও বেশি নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে সত্তুর বিরুদ্ধে। গণধর্ষণের অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ-সহ চারটি রাজ্যে তিনি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ হাজার টাকা।

গত ২২ জুন গভীর রাতে মুজফ্‌ফরনগরে একটি অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। অভিযোগ, পুলিশ একটি সন্দেহভাজন গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে সেখান থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। পাল্টা গুলিতে আহত হন সত্তু। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরদিন মৃত্যু হয়। ঘটনায় এক সাব-ইনস্পেক্টর ও এক কনস্টেবলও আহত হন।

এই অভিযানে অপহৃত এক নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গুলি, একটি ভুয়ো আধার কার্ড, মোবাইল ফোন এবং অপহৃত কিশোরীর দুল।

তদন্তকারীদের দাবি, সত্তু মূলত দরিদ্র পরিবারের নাবালিকাদের লক্ষ্য করতেন। কখনও নিজেকে সেনাকর্মী, কখনও সরকারি কর্মচারী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করতেন। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে নির্জন জায়গা বা হোটেলে ধর্ষণ করতেন বলে অভিযোগ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নির্যাতনের পর ভারী বস্তু দিয়ে তাঁদের মাথায় আঘাত করা হত, যাতে তাঁরা প্রতিরোধ বা অভিযোগ করতে না পারেন।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, সত্তুর বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, তোলাবাজি, ধর্ষণ-সহ প্রায় ৩০টি মামলা ছিল। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর কারাবন্দি ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লুধিয়ানা জেল থেকে পালিয়ে যান এবং তারপর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশের দাবি, সত্তু কুখ্যাত গ্যাংস্টার ছোটা রাজনের গ্যাংয়ের সদস্য এবং শুটার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে অবশ্য তাঁর পরিচয় ছিল এক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবে।

১৯৯৬ সালে পঞ্জাবের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন সত্তু। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহের সঙ্গে একই ক্রিকেট পরিকাঠামোয় অনুশীলন করেছেন তিনি। যুবরাজের বাবা তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার যোগরাজ সিংহের কাছেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। দ্রুত গতির বোলিংয়ের জন্য তিনি নজর কেড়েছিলেন নির্বাচকদের।

কিন্তু ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার স্বপ্ন অর্থাভাবে পূরণ হয়নি। পরে একটি হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। সেই ঘটনার জেরে দল থেকে বাদ পড়েন এবং নির্বাচকদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এরপরই ক্রিকেটজীবনের ইতি ঘটে।

ক্রিকেট থেকে সরে এসে তিনি ধীরে ধীরে অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত হন। পুলিশের দাবি, সময়ের সঙ্গে তিনি ছোটা রাজনের গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্যে পরিণত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, তোলাবাজি ও যৌন নির্যাতনের একাধিক মামলা দায়ের হয়।

পুলিশের বক্তব্য, বহু দিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল একাধিক রাজ্যের পুলিশ। শেষ পর্যন্ত মুজফ্‌ফরনগরে যৌথ অভিযানে তাঁর অপরাধজীবনের সমাপ্তি ঘটে। তবে এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং তাঁর অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *