কেতন হত্যাকাণ্ডে সামনে এল চেতন-সিয়ার পরিকল্পনার নতুন তথ্য!
কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হত্যার আগে ইন্টারনেটে খুনের বিভিন্ন উপায় নিয়ে খোঁজ করেছিলেন অভিযুক্ত সিয়া গোয়ল ও তাঁর প্রেমিক চেতন অগ্রবাল। বিষপ্রয়োগ নাকি পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া— কোন পদ্ধতিতে কম ঝুঁকিতে পরিকল্পনা সফল হতে পারে, তা নিয়েই নাকি অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, শেষ পর্যন্ত তাঁরা পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনাই বেছে নেন। কারণ, সেটিকে সহজেই দুর্ঘটনা বলে দেখানো সম্ভব হবে বলে তাঁদের ধারণা ছিল। এমনকি ঘটনার পর কীভাবে আচরণ করতে হবে, পরিবারের সামনে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হবে এবং সন্দেহ এড়াতে কী বলা উচিত— সেই বিষয়েও আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনাদিনে কেতন ও সিয়া একসঙ্গে গাড়িতে করে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন। অন্য দিকে, চেতন আলাদা করে মোটরবাইকে সেখানে পৌঁছন। ঘটনার পর সিয়াই প্রথমে দুর্গের এক নিরাপত্তারক্ষীর কাছে গিয়ে জানান, একজন পাহাড় থেকে নীচে পড়ে গিয়েছেন। অভিযোগ, সেই কথা বলার পরই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই কেতন ও সিয়ার ব্যবহৃত লাল রঙের গাড়ি এবং চেতনের মোটরবাইক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি চেতনের একটি হুডি, হেডফোন-সহ একাধিক সামগ্রীও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মে মাসের শেষ সপ্তাহেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিলেন সিয়া ও চেতন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমেরিকা থেকে পুণেতে ফিরে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন কেতন। এরপরই পরিবারের উদ্যোগে সিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা এগোয় এবং ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বাগদান সম্পন্ন হয়।
অভিযোগ, বিয়ের সম্বন্ধের কথা শুরু থেকেই প্রেমিক চেতনকে জানিয়েছিলেন সিয়া। এমনকি নিজের উদ্বেগের কথাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাগদানের পর সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সিয়া ও চেতনের মধ্যে ফোনে কথা বলা এবং বার্তা আদানপ্রদান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই সময় থেকেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার বিকল্প উপায় খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। সূত্রের দাবি, প্রথমে দু’বার অন্যভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা ব্যর্থ হলে, শেষে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিকল্পনা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেন চেতন।
তবে এই সমস্ত তথ্য তদন্তকারী সূত্রের দাবি। মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আইনি ভাবে প্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য করা যায় না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?