কাতারের উপহার ‘উড়ন্ত প্রাসাদে’ বড় রদবদল!
কাতারের রাজপরিবারের উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি শুরু করেছে ওয়াশিংটন। তবে বর্তমান অবস্থায় এটি শুধু একটি অত্যাধুনিক অসামরিক জেট। প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করতে বিমানটিতে আনা হবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাগত পরিবর্তন।
নতুন বিমানটি লাল, সাদা এবং গাঢ় নীল রঙে সাজানো হয়েছে, যা আমেরিকার জাতীয় পতাকার রঙের অনুকরণে তৈরি। লেজের অংশেও রয়েছে মার্কিন পতাকার নকশা। মার্কিন বিমানবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই বিমানটির ‘কমিশনিং ফ্লাইট’ বা চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক উড়ান শুরু হবে।
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে বিশেষ বিমান ব্যবহার করেন, সেগুলি বহু বছর ধরে পরিষেবা দিয়ে আসছে। সেই কারণেই নতুন প্রজন্মের বিমান হাতে না আসা পর্যন্ত কাতারের এই ৭৪৭-৮ বিমানটিকে অন্তর্বর্তী বা ‘ব্রিজ’ বিমান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিমানকে সরাসরি প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এজন্য এটিকে একটি ভাসমান কমান্ড সেন্টারে রূপান্তর করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের রূপান্তর অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। বিমানটিতে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য নজরদারি বা আক্রমণ শনাক্ত করার বিশেষ প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। নতুন বিমানেও যুক্ত হবে উপগ্রহ-নির্ভর এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্রযুক্তি, যাতে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে অবস্থান করেও প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে পারেন।
বিমানটির অভ্যন্তরও ব্যাপকভাবে বদলে ফেলা হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে থাকবে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, আধুনিক চিকিৎসা ইউনিট, সম্মেলন কক্ষ এবং দু’টি পূর্ণাঙ্গ রান্নাঘর। একসঙ্গে প্রায় ১০০ জনের খাবার প্রস্তুতের সুবিধাও থাকবে। আসনগুলিতে বিশেষ কাঠের প্যানেল, প্রেসিডেন্টের সিলমোহর এবং সম্পূর্ণ শোয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে ব্যবহৃত এয়ার ফোর্স ওয়ান শুধু একটি পরিবহণ মাধ্যম নয়, বরং চলমান প্রেসিডেন্সিয়াল কমান্ড সেন্টার। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ও প্রেসিডেন্ট যাতে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই নতুন বিমানটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তবে এই উপহার ঘিরে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, বিদেশি সরকারের কাছ থেকে এত মূল্যবান বিমান গ্রহণ করলে নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প-সমর্থকদের দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিবর্তনের পর এই বিমান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।
সব মিলিয়ে, কাতারের উপহার পাওয়া এই ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’কে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করতে এখন চলছে ব্যাপক রূপান্তরের কাজ, যেখানে বিলাসিতার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?