সরকারি চাকরিতে এক লক্ষ নিয়োগের ঘোষণা, শিক্ষাক্ষেত্রেই অর্ধেক পদ!
রাজ্যে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করল বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, আগামী দিনে সরকারি বিভিন্ন দফতরে মোট এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রকে। পাশাপাশি নতুন নিয়োগে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক লক্ষ নিয়োগের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পদ থাকবে শিক্ষা বিভাগে। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অধ্যাপক পদে এই নিয়োগ করা হবে। এছাড়া পুলিশ বিভাগে ২০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস (ইএফআর)-এ ১,০০০ জনকে নিয়োগ করা হবে। বাকি শূন্যপদগুলি বিভিন্ন সরকারি দফতরে পূরণ করা হবে।
বাজেটে আরও জানানো হয়েছে, যেখানে প্রযোজ্য হবে সেখানে নিয়োগের ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারের দাবি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি ও সরকার-পোষিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে নতুন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশন (ইউপিএসসি)-র আদলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে সরকারের আশা।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল বয়সসীমার ছাড়। এর আগে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সোমবারের বাজেটে জানানো হয়েছে, সেই সুবিধা আগামী দু’বছরও বহাল থাকবে।
বর্তমানে গ্রুপ ‘এ’ পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪১ বছর, গ্রুপ ‘বি’-তে ৪৪ বছর এবং গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ পদে ৪৫ বছর পর্যন্ত আবেদন করা যাচ্ছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে এই নিয়ম আগামী দুই বছর কার্যকর থাকবে, ফলে বহু চাকরিপ্রার্থী নতুন করে সুযোগ পাবেন।
শুধু নিয়োগ নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজের যে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বাজেটের এই ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে রাজ্যের চাকরির বাজারে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?