মেসির ফাউল ঘিরে তোলপাড়!!
লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিতর্ক থামছেই না। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের একটি ফাউলের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট আলজেরিয়া। তাদের অভিযোগ, পোল্যান্ডের রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ঘটনাটি ‘ভার’ প্রযুক্তিতে খতিয়ে দেখা হয়নি বলেও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
আলজেরিয়ার ফুটবল ফেডারেশন এই বিষয়ে ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে সরকারি ভাবে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, মেসির করা ফাউলটি শুধুমাত্র সাধারণ ফাউল ছিল না, সেখানে হলুদ কার্ড এমনকি লাল কার্ড দেখানোর যথেষ্ট কারণ ছিল।
ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া ম্যাচে। আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মেন্ডি বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু তাঁর বুটের স্টাড গিয়ে লাগে মেন্ডির পায়ের কাফ মাসল এবং অ্যাকিলিস টেন্ডনের মাঝামাঝি জায়গায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির পায়ের অবস্থান যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ট্যাকলে বুটের স্টাড বিপজ্জনক ভাবে দেখা গেলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখাতে পারেন। আর যদি ফাউলটি গুরুতর চোটের আশঙ্কা তৈরি করে, তা হলে সরাসরি লাল কার্ডও দেখানোর সুযোগ থাকে। সেই কারণেই মার্সিনিয়াকের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
আলজেরিয়ার এক ফুটবল কর্তা জানিয়েছেন, মেসির ফাউল ছাড়াও আরও কয়েকটি ঘটনায় তারা অসন্তুষ্ট। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আর্জেন্টিনা নিঃসন্দেহে শক্তিশালী দল। কিন্তু কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে। অন্তত তিনটি ঘটনায় রেফারির আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল। অথচ কোনও ক্ষেত্রেই ‘ভার’-এর সাহায্য নেওয়া হয়নি।’’
তাদের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি ঘটনাও। আলজেরিয়ার দাবি, দ্বিতীয়ার্ধে ইব্রাহিম মাজ়াকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই ক্ষেত্রেও রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি।
এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রস। তিনিও মেসির ফাউল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার দলের কোনও ফুটবলারকে এ ভাবে ফাউল করা হলে আমি বিষয়টি সহজ ভাবে নিতাম না।’’
ব্রস আরও জানান, তাঁর দলের মিডফিল্ডার থেম্বা জ়াওয়ানে একই ধরনের ফাউলের জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। তাই মেসির ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, মেসির মতো তারকা ফুটবলারকে মাঠের বাইরে দেখতে চান না।
এখন ফিফার জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে আলজেরিয়া। সেই সিদ্ধান্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে তারা। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এখনও জর্ডন ও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ বাকি রয়েছে আলজেরিয়ার, ফলে নক আউট পর্বে ওঠার আশা এখনও জিইয়ে রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?