দেশঁর মাস্টারস্ট্রোকে ফ্রান্সের জয়, জোড়া গোলে ইতিহাস ছুঁলেন এমবাপে

জোড়া গোলে ইতিহাস ছুঁলেন এমবাপে! বিশ্বকাপের মঞ্চে সেনেগালের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লড়াই মানেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে যাওয়া। ২০০২ সালের সেই অপ্রত্যাশিত হার এখনও ফরাসি সমর্থকদের মনে দগদগে ক্ষত। ২৪ বছর পরে…

June 17, 2026
1 min read

জোড়া গোলে ইতিহাস ছুঁলেন এমবাপে!

বিশ্বকাপের মঞ্চে সেনেগালের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের লড়াই মানেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে যাওয়া। ২০০২ সালের সেই অপ্রত্যাশিত হার এখনও ফরাসি সমর্থকদের মনে দগদগে ক্ষত। ২৪ বছর পরে আবার মুখোমুখি দুই দল। ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখে মনে হচ্ছিল, ইতিহাস যেন আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে চলেছে। কিন্তু দিদিয়ের দেশঁর কৌশলী সিদ্ধান্ত এবং কিলিয়ান এমবাপের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জয় তুলে নিল ফ্রান্স।

প্রথমার্ধে এমবাপেকে কার্যত অদৃশ্য করে দিয়েছিল সেনেগাল। তাদের অধিনায়ক কালিদু কৌলিবালি ছায়াসঙ্গীর মতো লেগে ছিলেন ফরাসি তারকার সঙ্গে। ফলে বল পেলেও স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারছিলেন না এমবাপে। ফ্রান্সের আক্রমণও ধারহীন দেখাচ্ছিল।

উল্টো দিকে সেনেগাল ছিল অনেক বেশি বিপজ্জনক। সাদিয়ো মানে, নিকোলাস জ্যাকসন এবং ইসমাইলা সার বারবার ফরাসি রক্ষণে চাপ তৈরি করছিলেন। জ্যাকসন দু’টি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। একবার তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আরেকবার প্রায় খালি গোল সামনে পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। সেই সুযোগ নষ্টের মাশুলই শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে।

বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দেশঁ। এমবাপেকে মাঝমাঠের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় না রেখে প্রান্তে সরিয়ে দেন তিনি। এই একটি পরিবর্তনেই বদলে যায় ফ্রান্সের আক্রমণের চেহারা। কৌলিবালির কড়া নজরদারি থেকে বেরিয়ে এসে বেশি জায়গা পেতে শুরু করেন এমবাপে। তাঁর গতি এবং ড্রিবলিংয়ে তখন দিশেহারা সেনেগালের রক্ষণ।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের আক্রমণ ধারালো হতে শুরু করে। একাধিক সুযোগ তৈরি হয়। অবশেষে ৬৬ মিনিটে গোলের দেখা মেলে। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডিকে পরাস্ত করেন এমবাপে। এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

গোল খাওয়ার পর আক্রমণে ঝাঁপায় সেনেগাল। আর সেই সুযোগই কাজে লাগায় ফরাসিরা। দেশঁর আরেকটি বদল ফল দেয় দ্রুত। বদলি হিসাবে নেমে ৮২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বার্কোলা। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে সেনেগালের রক্ষণ ভেঙে গোল করেন তিনি।

যদিও ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিল সেনেগাল। ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমান। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন এমবাপে। সংযুক্তি সময়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় ফ্রান্সের জয়।

এই জোড়া গোল শুধু ফ্রান্সকে তিন পয়েন্টই দেয়নি, এমবাপেকে পৌঁছে দিয়েছে ইতিহাসের পাতাতেও। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪। এই কৃতিত্বে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারকে এবং পিছনে ফেলেছেন ফুটবলের একাধিক কিংবদন্তিকে। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও উপরের দিকে উঠে এলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সব আলো স্বাভাবিক ভাবেই এমবাপের উপর পড়লেও ফরাসি শিবির জানে, এই জয়ের নেপথ্যে সমান কৃতিত্ব দেশঁর। প্রথমার্ধে সমস্যায় পড়া দলকে বিরতির পর নতুন পরিকল্পনায় সাজিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিয়ে নেন তিনি। আর সেই কৌশলই ২৪ বছর আগের দুঃস্বপ্ন ভুলিয়ে নতুন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করাল ফ্রান্সকে।

সেনেগাল অবশ্য হতাশ হলেও মাথা উঁচু রাখতেই পারে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারাই তাদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স বুঝিয়ে দিল— তাদের হাতে এখনও আছে বিশ্বকাপ জেতার মতো অস্ত্র, আর সেই অস্ত্রের নাম কিলিয়ান এমবাপে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *