ভিনিসিয়াস ও হাকিমিকে থামিয়ে বিতর্কে ফিফা!
বিশ্বকাপের মাঠে ফুটবলের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভাষা-সংক্রান্ত এক বিতর্ক। ব্রাজ়িল ও মরক্কোর ম্যাচের আগে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে স্প্যানিশ ভাষায় উত্তর দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন দুই তারকা ফুটবলার— ব্রাজ়িলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং মরক্কোর অধিনায়ক আশরফ হাকিমি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত মরক্কোর অধিনায়ক হাকিমির সাংবাদিক বৈঠকে। স্পেনে বড় হওয়া এবং দীর্ঘদিন লা লিগায় খেলার সুবাদে স্প্যানিশ ভাষায় অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ তিনি। এক সাংবাদিক তাঁকে স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করলে হাকিমিও একই ভাষায় উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু তখনই ফিফার এক কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করে প্রশ্নটি ইংরেজিতে করার অনুরোধ জানান।
হাকিমি স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি স্প্যানিশ ভাষাতেই উত্তর দিতে সক্ষম। কিন্তু তাতেও নিয়ম শিথিল করা হয়নি। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই বৈঠকে স্প্যানিশ ভাষার কোনও দোভাষী উপস্থিত নেই। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সাংবাদিকই সমাধান বের করেন। তিনি স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করেন এবং হাকিমি ইংরেজিতে উত্তর দেন।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় ব্রাজ়িলের তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকেও। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার কারণে স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করা হলে তিনি সেই ভাষাতেই উত্তর দিতে শুরু করেন। কিন্তু ফিফার প্রতিনিধি তাঁকে মাঝপথেই থামিয়ে দেন এবং ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সমস্যা হল, ভিনিসিয়াস ইংরেজিতে ততটা স্বচ্ছন্দ নন। ফলে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের মাতৃভাষা পর্তুগিজে উত্তর দেন, যা পরে অনুবাদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফুটবলমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত বিশ্বকাপে এমন সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্প্যানিশ ভাষা অত্যন্ত প্রচলিত। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন এই ভাষায় কথা বলেন এবং বহু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানেও স্প্যানিশ অন্যতম প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে ভাষাগত বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করার বদলে এমন সীমাবদ্ধতা অপ্রয়োজনীয়। ফুটবলাররা যে ভাষায় নিজেদের ভাবনা সবচেয়ে স্বচ্ছন্দে প্রকাশ করতে পারেন, সেই সুযোগ তাঁদের দেওয়া উচিত বলেই মত অনেকের।
ফিফার পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভাষার স্বাধীনতা এবং অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্ব পাবে কি না, এখন সেটাই দেখার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?