শত্রুঘ্ন সিন্হাকে ঘিরে জল্পনা, কিন্তু কী বলছেন তিনি?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে ফের আলোচনার কেন্দ্রে আসানসোলের সাংসদ Shatrughan Sinha। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং একাংশ সাংসদের বিদ্রোহের জল্পনার মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— বিজেপি থেকেই যার রাজনৈতিক উত্থান, সেই ‘বিহারিবাবু’ কি আবার পুরনো দলে ফিরতে চলেছেন?
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন শত্রুঘ্ন। সেই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় নতুন জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ছিল, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর নামও জড়িয়েছে। এমনও শোনা যায় যে, লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে।
তবে এই সমস্ত জল্পনাকে স্পষ্ট ভাষায় উড়িয়ে দিয়েছেন শত্রুঘ্ন। তাঁর দাবি, তিনি কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন এবং কোনও চিঠিতেও স্বাক্ষর করেননি। বরং তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল নেত্রী Mamata Banerjee-র প্রতি তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা রয়েছে।
শত্রুঘ্নের কথায়, রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ে মমতা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই কারণেই বর্তমানে দল কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও তিনি তৃণমূল ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে দলের পাশে থাকা তাঁর দায়িত্ব।
রাজনীতিতে শত্রুঘ্নের পথচলা অবশ্য বহু বাঁক পেরিয়ে এসেছে। ১৯৯০-এর দশকে বিজেপির হাত ধরে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী Atal Bihari Vajpayee-র মন্ত্রিসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। পরে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদের জেরে কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু সেই অধ্যায়ও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে আসানসোল উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আসানসোলে জয়ের ধারা বজায় রাখেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুঘ্নের বক্তব্যে দলবদলের কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাজনৈতিক দলে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা সব সময় ভাঙনের লক্ষণ নয়।
তৃণমূলের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে শত্রুঘ্নের বিশ্বাস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও একজন লড়াকু নেত্রী এবং অতীতের মতো এ বারও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন। তাই আপাতত ‘ঘর ওয়াপসি’র জল্পনা যতই জোরালো হোক, শত্রুঘ্ন সিন্হার বক্তব্য বলছে— তিনি এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন এবং আসানসোলের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?