স্টোকস-বিতর্কের মাঝে মজার প্রস্তাব হ্যারি কেনের!
ইংল্যান্ডের ফুটবল অধিনায়ক হ্যারি কেন এখন বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ত। তবে তার মধ্যেও দেশের ক্রিকেট দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নিজের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকসকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক এখন ব্রিটিশ ক্রীড়াজগতের অন্যতম আলোচিত বিষয়। অভিযোগ, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর এক পানশালায় মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন স্টোকস এবং তাঁর সতীর্থ গাস অ্যাটকিনসন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্টোকসের অধিনায়কত্ব, এমনকি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই আবহেই সমাজমাধ্যমে একটি হালকা মেজাজের পোস্ট করেন হ্যারি কেন। সেখানে তাঁকে ব্যাট হাতে এবং স্পিন বোলিং করতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “দরকার হলে আমি সব সময় প্রস্তুত।” মজার ছলে দেওয়া এই বার্তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই এটিকে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি রসিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
যদিও বাস্তবে কেনের সমস্ত মনোযোগ এখন ফুটবল বিশ্বকাপেই। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। সেই অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামছে দল। অধিনায়ক হিসেবে কেনের কাঁধে বড় দায়িত্ব, আর গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর উপরেই সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখছেন সমর্থকেরা।
অন্যদিকে, স্টোকসের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সাময়িক বরখাস্ত করা থেকে শুরু করে অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া— সব সম্ভাবনাই খোলা রয়েছে। এমনকি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ গুরুতর প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিরতিও নিতে হতে পারে তাঁকে।
স্টোকসের সামনে এখন একাধিক পথ খোলা। তিনি নিজে নেতৃত্ব ছেড়ে সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। আবার অধিনায়কত্ব ধরে রাখার লড়াইও করতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে। সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হবে অবসর নেওয়া, যদিও সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত দেড় দশকে দলের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন স্টোকস। তাঁর নেতৃত্ব, অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা ইংল্যান্ডকে বহু সাফল্য এনে দিয়েছে। ফলে তাঁকে হারালে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সময় লাগবে।
এটিই অবশ্য প্রথম বিতর্ক নয়। ২০১৭ সালে ব্রিস্টলে এক পানশালার মারামারির ঘটনায় স্টোকস বড় শাস্তির মুখে পড়েছিলেন। পরে মানসিক স্বাস্থ্যের কারণেও ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। কিন্তু নতুন এই বিতর্ক আবারও তাঁর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এখন সবার নজর তদন্তের দিকে। স্টোকসের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়— সেটাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?