বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন লিটন!
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস অবশেষে মুখ খুললেন সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে, যার ফলে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বকাপে দল পাঠায়নি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ক্রিকেটারদের মতামতের কতটা মিল ছিল, তা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন লিটন।
এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জানান, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হারানোর আক্ষেপ এখনও তাঁকে তাড়া করে। তাঁর মতে, ক্রিকেটারদের প্রকৃত মতামতকে গুরুত্ব না দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
লিটন বলেন, খেলোয়াড়দের কাছে শুধু জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁরা কী চান। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের কাছে উত্তরটা স্বাভাবিক— তিনি মাঠে নেমে খেলতেই চাইবেন। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক টানাপড়েনে জড়ানো নয়, তাঁদের লক্ষ্য ছিল ক্রিকেট খেলা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, ক্রিকেটাররা নয়।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ টেনে তিনি পাকিস্তান সফরের কথাও তুলে ধরেন। লিটনের দাবি, পাকিস্তানে খেলতে গিয়ে তাঁরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র হাতে সারাক্ষণ পাহারা দিতেন। হোটেলের বাইরে বন্দুকধারী নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবুও বাংলাদেশ দল সেখানে খেলেছে।
তাঁর কথায়, “আমরা পাকিস্তানেও খেলেছি। সেখানে ঘরের বাইরে বন্দুক হাতে নিরাপত্তারক্ষীরা দাঁড়িয়ে থাকতেন। তার চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? তারপরও আমরা মাঠে নেমেছি। তাই শুধু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন।”
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন লিটন। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ক্রিকেটারদের মতামতের ভিত্তিতেই বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু লিটনের বক্তব্য, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি।
তিনি জানান, যে বৈঠকের কথা বলা হয়েছিল, সেখানে ক্রিকেটারদের মতামত জানতে চাওয়া হয়নি। বরং তাঁরা উপস্থিত ছিলেন মাত্র। লিটনের ভাষায়, “আমরা বৈঠকে গিয়েছিলাম, চা খেয়েছিলাম, তারপর বেরিয়ে এসেছিলাম। আমাদের কাছ থেকে কোনও মতামত চাওয়া হয়নি। সিদ্ধান্তও আমাদের হাতে ছিল না।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে লিটন কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তকে তিনি পুরোপুরি সমর্থন করেন না। তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা এবং খেলোয়াড়দের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যখন দেশের অধিনায়ক নিজেই জানাচ্ছেন যে ক্রিকেটারদের কণ্ঠস্বর সেই সিদ্ধান্তে কার্যত অনুপস্থিত ছিল, তখন প্রশ্ন উঠছে— জাতীয় দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শেষ কথা বলার অধিকার কার হওয়া উচিত? খেলোয়াড়দের, নাকি প্রশাসনের?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?