বিশ্বকাপের মঞ্চে যুদ্ধবিরোধী বার্তা!
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু খেলার আসর নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে বার্তা পৌঁছে দেওয়ারও মঞ্চ। এবার সেই পথেই হাঁটল ইরান ফুটবল দল। বিশ্বকাপে অংশ নিতে মেক্সিকোয় পৌঁছানোর সময় বিশেষ একটি ব্যাজ পরে নজর কাড়লেন ইরানের ফুটবলারেরা। তাঁদের জ্যাকেটে ছিল ‘#168’ লেখা ব্যাজ, যা সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিকে সামনে এনে দিল বিশ্ববাসীর কাছে।
ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় বহু শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ১৬৮ জন ছিল স্কুলপড়ুয়া। সেই শিশুদের স্মরণেই ‘#168’ ব্যাজ ব্যবহার করেছে ইরান দল।
তুরস্ক থেকে মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রার সময় ফুটবলারদের পোশাকে কোনও ব্যাজ দেখা যায়নি। তবে বিমানের ভিতরে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, দলের সদস্যদের নীল জ্যাকেটের উপর স্পষ্টভাবে লাগানো রয়েছে ‘#168’ লেখা ব্যাজ। মেক্সিকো বিমানবন্দরে নামার সময়ও সেই ব্যাজ তাঁদের গায়ে ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিগুলি ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এটাই প্রথম নয়। এর আগেও নিহত শিশুদের স্মরণে ইরানের ফুটবলাররা এক প্রীতি ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীতের সময় স্কুলব্যাগ হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ম্যাচে তাঁরা কালো বাহুবন্ধনীও পরেছিলেন। এবার বিশ্বকাপ যাত্রার সময় একই বার্তাকে আরও একবার সামনে আনলেন তাঁরা।
তবে বিশ্বকাপ চলাকালীন মাঠে এই ধরনের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা, স্লোগান বা প্রতীক ম্যাচের সময় প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট ফুটবলার বা দল শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
এই কারণেই ইরান দল মাঠের বাইরে, যাত্রাপথকেই তাদের বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি বিমানযাত্রার সময় ঘটেছে, তাই তা ফিফার সরাসরি নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে না।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের এই পদক্ষেপ আবারও মনে করিয়ে দিল, খেলাধুলার মঞ্চ অনেক সময় শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ‘#168’ ব্যাজ সেই বার্তাকেই নতুন করে বিশ্বদরবারে তুলে ধরল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?