বিশ্বকাপে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রভাব! আমেরিকায় ঢুকতেই বাধা সোমালিয়ার তারকা রেফারিকে

আমেরিকায় ঢুকতেই বাধা সোমালিয়ার তারকা রেফারিকে! ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তারা আমেরিকায় জড়ো হচ্ছেন, তখন এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আয়োজক দেশের অভিবাসন…

June 10, 2026
0 min read

আমেরিকায় ঢুকতেই বাধা সোমালিয়ার তারকা রেফারিকে!

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তারা আমেরিকায় জড়ো হচ্ছেন, তখন এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আয়োজক দেশের অভিবাসন নীতি নিয়ে। সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

ফিফার নির্বাচিত ৫২ জন ম্যাচ অফিসিয়ালের তালিকায় ছিলেন আরতান। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন প্রথম সোমালি রেফারি যিনি ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই থেমে গেল তাঁর যাত্রা।

খবর অনুযায়ী, বৈধ মার্কিন ভিসা এবং সোমালিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও মায়ামি বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ইস্তানবুলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি। সোমালিয়া এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে রয়েছে, যাদের নাগরিকদের প্রবেশের উপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। সেই নীতির সরাসরি প্রভাব এবার পড়ল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চেও।

ওমর আরতান শুধু সোমালিয়ার নয়, গোটা আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালে তিনি আফ্রিকার সেরা রেফারির সম্মান অর্জন করেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দায়িত্ব সামলানো এই রেফারি সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতাও।

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সোমালিয়ার প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির। তাঁর মতে, “ওমর আরতান আফ্রিকার সবচেয়ে সম্মানিত রেফারিদের একজন। তাঁকে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, এটি ফুটবলের ন্যায়বিচার, যোগ্যতা এবং ফেয়ার প্লের চেতনার বিরুদ্ধেও আঘাত।”

এর আগেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমেরিকার অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের ফুটবলার ও কোচদের ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। পাশাপাশি কয়েকটি দেশের সাংবাদিক ও সমর্থকদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। অনেককে সীমিত মেয়াদের বা একবার প্রবেশযোগ্য ভিসা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাঁরা কানাডা বা মেক্সিকোয় গেলে পুনরায় আমেরিকায় ফিরতে পারবেন না।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, আরতানের ঘটনা তারই একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফুটবল মহলের একাংশের মতে, খেলাধুলার মঞ্চে জাতীয়তা নয়, দক্ষতা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই আদর্শকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *