দক্ষিণী ছবিতে নারীচরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক!
দক্ষিণী চলচ্চিত্রে নারীচরিত্রকে কী ভাবে তুলে ধরা হয়, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূরের মন্তব্য ঘিরে। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ছবিতে তাঁর চরিত্রকে কেন্দ্র করে দর্শকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, অভিনয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁর শারীরিক আবেদনকে। এমনকি জাহ্নবীর একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসার পর জানা যায়, তিনিও নাকি চরিত্রটির উপস্থাপনা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।
অভিনেত্রীর দাবি, অনেক সময় তাঁকে বলা হয়েছে মুখের ক্লোজ়আপ নেওয়া হবে, কিন্তু ক্যামেরার ফোকাস চলে গিয়েছে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে। এই মন্তব্যের পরই দক্ষিণী ছবিতে নারীদের উপস্থাপনা নিয়ে পুরনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।
তবে এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে একাধিক অভিনেত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ছবিতে নারীচরিত্রকে প্রায়ই শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা গ্ল্যামারের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাঁদের মতে, চরিত্রের গভীরতা বা গল্পে গুরুত্বের বদলে অনেক ক্ষেত্রেই শারীরিক আকর্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিনেত্রী তাপসী পন্নু এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তেলুগু ও তামিল ছবিতে অনেক সময় নাভির ক্লোজ়আপ বা শরীরকেন্দ্রিক দৃশ্যের মাধ্যমে নারীচরিত্রকে উপস্থাপন করা হয়, যা তাঁর মতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পণ্যায়নের শামিল।
সাই পল্লবীও বারবার জোর দিয়েছেন শক্তিশালী নারীচরিত্রের উপর। তিনি এমন চরিত্র বেছে নিতে পছন্দ করেন, যেখানে নারীর নিজস্ব পরিচয়, মতামত ও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। একই সুর শোনা গিয়েছে সমান্থা রুথ প্রভুর বক্তব্যেও। তাঁর মতে, অনেক বাণিজ্যিক ছবিতে এখনও পুরুষ দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় মুখ নয়নতারা দীর্ঘ দিন ধরেই এমন সব চরিত্র বেছে নিচ্ছেন, যেখানে নারী শুধু নায়কের সঙ্গী নন, গল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি। অন্য দিকে অভিনেত্রী পার্বতী তিরুভোতুও বহুবার বলেছেন, অভিনেত্রীদের শুধুমাত্র দর্শকের আকর্ষণের বস্তু হিসেবে দেখানো উচিত নয়; বরং বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক উপস্থাপনাই হওয়া উচিত।
রাধিকা আপটে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁকে কখনও ওজন বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আবার কখনও শরীরের নির্দিষ্ট অংশকে বড় দেখানোর জন্য বিশেষ পোশাক পরতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের চাপ অভিনেত্রীদের জন্য অস্বস্তিকর।
অনুষ্কা শেট্টী ও রাশি খন্নার মতো অভিনেত্রীরাও জানিয়েছেন, তাঁরা এমন চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী যেখানে অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে এবং চরিত্রের নিজস্ব গুরুত্ব থাকে। শুধুমাত্র গ্ল্যামারের জন্য কোনও চরিত্র গ্রহণ করতে তাঁরা অনাগ্রহী।
জাহ্নবীর সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই শুধু একটি ছবিকে ঘিরে বিতর্ক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বৃহত্তর আলোচনাকে আবার সামনে এনে দিয়েছে। চলচ্চিত্রে নারীচরিত্রের উপস্থাপনা কি বদলাচ্ছে, নাকি এখনও পুরনো মানসিকতার প্রভাব রয়ে গিয়েছে— সেই প্রশ্নই এখন নতুন করে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?