অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান!
দীর্ঘদিনের হতাশা, সমালোচনা এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর অবশেষে স্বস্তির হাসি পাকিস্তান ক্রিকেট শিবিরে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে ২-১ ব্যবধানে এক দিনের সিরিজে হারিয়ে বড়সড় বার্তা দিল শাহিন শাহ আফ্রিদির দল। সিরিজের নির্ণায়ক তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তান শুধু জেতেনি, বরং চাপের মুহূর্তে নিজেদের স্নায়ুর দৃঢ়তাও প্রমাণ করেছে।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল পাকিস্তানের বোলিং
লাহৌরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওডিআইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সফরকারীরা।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরে যান ওপেনার ম্যাথু শর্ট। এরপর মার্নাস লাবুশেন (১৯) ও অ্যালেক্স ক্যারে (১৯) কিছুটা লড়াই করলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি ৭১ বলে ৬৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারানোর ফলে মাত্র ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
পাকিস্তানের সফল বোলাররা
| বোলার | উইকেট | রান |
|---|---|---|
| শাহিন শাহ আফ্রিদি | ৩ | ৩০ |
| আবরার আহমেদ | ২ | ১৯ |
| শাদাব খান | ২ | ২৮ |
| হ্যারিস রউফ | ১ | ৩৩ |
শাহিনের আগ্রাসী স্পেল এবং স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত দিশেহারা করে দেয়।
সহজ লক্ষ্যও কঠিন হয়ে উঠেছিল
১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না পাকিস্তান। মাত্র ৬ রান করে ফিরে যান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।
অন্য ওপেনার মাজ সাদাকত ২৭ রান করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। দলের হাল ধরেন বাবর আজম। যদিও তিনি ধীরগতির ব্যাটিং করেন, তবু ৮৪ বলে ৪০ রানের ইনিংস দলের ভিত গড়ে দেয়।
গাজি ঘোরি (৮), সলমন আঘা (১৫) এবং আরাফাত মিনহাস (৯) বড় রান করতে না পারায় ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। তবে শেষদিকে আব্দুল সামাদের অপরাজিত ১৮ এবং শাদাব খানের ২৯ রানের কার্যকর ইনিংস পাকিস্তানকে ৪১.৫ ওভারে জয় এনে দেয়।
সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল পাকিস্তান
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ধারাবাহিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা, দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এবং পারফরম্যান্সের ওঠানামা সমর্থকদের হতাশ করেছিল।
তাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই সিরিজ জয় শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের বড় ধাপ। বিশেষ করে শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বে তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয় যে কার্যকর হচ্ছে, এই সিরিজ তারই প্রমাণ।
বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইলে পাকিস্তানকে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তবে আপাতত বলা যায়, দীর্ঘ অন্ধকারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?