মশার বিরুদ্ধে মশাই অস্ত্র!
ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মশা মারতে আর শুধুমাত্র ওষুধ বা স্প্রে নয়, ব্যবহার করা হবে মশাকেই। বিশেষ ধরনের ব্যাক্টেরিয়া বহনকারী পুরুষ মশাকে কাজে লাগিয়ে রোগ ছড়ানো স্ত্রী মশার সংখ্যা এবং তাদের ক্ষতিকর ক্ষমতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ পুরুষ মশা ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে Google-এর লাইফ সায়েন্স বিভাগ। লক্ষ্য একটাই— ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা।
কেন শুধু পুরুষ মশা?
রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী মূলত স্ত্রী মশা। ডিম পাড়ার জন্য তাদের রক্তের প্রয়োজন হয়, তাই তারা মানুষকে কামড়ায় এবং ভাইরাস বা পরজীবী ছড়ায়। অন্যদিকে পুরুষ মশা মানুষের রক্ত খায় না; তারা গাছের রস ও ফুলের মধু খেয়েই বেঁচে থাকে।
বিজ্ঞানীরা এই পুরুষ মশার শরীরে ‘ওলবাকিয়া পিপিয়েন্টিস’ নামে একটি বিশেষ ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশ করিয়েছেন। এরপর ওই পুরুষ মশাগুলি যখন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হবে, তখন ব্যাক্টেরিয়াটি স্ত্রী মশার শরীরেও ছড়িয়ে পড়বে।
কী করবে এই ব্যাক্টেরিয়া?
ওলবাকিয়া ব্যাক্টেরিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হল, এটি মশার শরীরে থাকা ডেঙ্গি ও অন্যান্য রোগজীবাণুর বিস্তারকে বাধা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী মশার ডিম পাড়ার ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে ধীরে ধীরে রোগ ছড়ানো মশার সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে।
যদি কোনও স্ত্রী মশা ডিম পাড়েও, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই ব্যাক্টেরিয়া পৌঁছে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের মশারাও রোগ সংক্রমণের ক্ষমতা হারাতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে কী লাভ?
গবেষকদের মতে, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ব্যাক্টেরিয়াবাহী মশা ছেড়ে দেওয়া গেলে একটি অঞ্চলে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মশা পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে না, কিন্তু তারা রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা হারাবে।
এ কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ এই পদ্ধতিকে পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন।
ভারতে কী হচ্ছে?
এই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। পুদুচেরির ভেক্টর কন্ট্রোল রিসার্চ সেন্টার প্রাথমিক গবেষণা চালিয়েছে। পাশাপাশি Indian Council of Medical Research (আইসিএমআর) ভবিষ্যতে দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো শহরে এমন মশা ছাড়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে এই নতুন কৌশল সফল হলে, ভবিষ্যতে হয়তো এমন এক সময় আসবে যখন মশা থাকবে, কিন্তু তাদের কামড়ে আর ভয়াবহ রোগ ছড়াবে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?