‘আমাকেই দেখার কেউ নেই’— অনীক দত্তের অবসাদ নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ শ্রীলেখার

অনীক দত্তের অবসাদ নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ শ্রীলেখার! পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোকস্তব্ধ অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। খবর পেয়েই তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। দীর্ঘ দিনের সহকর্মী, বন্ধু এবং তাঁর ভাষায়…

May 28, 2026
1 min read

অনীক দত্তের অবসাদ নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ শ্রীলেখার!

পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোকস্তব্ধ অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। খবর পেয়েই তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। দীর্ঘ দিনের সহকর্মী, বন্ধু এবং তাঁর ভাষায় “ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র অভিভাবক”-কে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি সামনে এনেছেন অবসাদের ভয়াবহ দিকটিও।

শ্রীলেখার কথায়, অনীক দত্ত শুধু একজন পরিচালক ছিলেন না, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা এবং সংবেদনশীল মানুষ ছিলেন। বহু মানুষ তাঁকে হয়তো স্পষ্টভাষী হওয়ার জন্য পছন্দ করতেন না, কিন্তু কাছের মানুষদের কাছে তিনি ছিলেন ভরসার জায়গা।

অভিনেত্রী জানান, তাঁদের মধ্যে প্রায়ই নানা বিষয় নিয়ে কথা হত— সিনেমা, সমাজ, রাজনীতি, এমনকি ব্যক্তিগত মানসিক অবস্থাও। একবার কথায় কথায় শ্রীলেখা বলেছিলেন, “আর বাঁচতে ভাল লাগে না।” উত্তরে অনীক দত্ত নাকি বলেছিলেন, “একদম ঠিক বলেছ, আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না।” তখন সেটাকে সাধারণ হতাশার কথা ভেবেছিলেন তিনি। আজ সেই কথাগুলোই নতুন করে কষ্ট দিচ্ছে।

শ্রীলেখা নিজেও জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছেন। তাই খুব কাছ থেকে বুঝতে পারেন, এই মানসিক অবস্থাটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। তাঁর কথায়, “অনেকে ভাবেন অবসাদ শৌখিন অসুখ। কিন্তু এই রোগ মানুষকে ভিতর থেকে শেষ করে দেয়। এমনকি শয্যাশায়ীও করে দিতে পারে।”

‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ এবং ‘বরুণবাবুর বন্ধু’-র মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন অনীক দত্ত ও শ্রীলেখা। সেই কাজের সূত্র ধরেই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়েছিল। অভিনেত্রীর দাবি, অনীক দত্ত সব সময় তাঁর পাশে থেকেছেন নিঃস্বার্থ ভাবে। কখনও কোনও স্বার্থের সম্পর্ক ছিল না।

অবসাদ কাটাতে অনীক দত্তকে নানা পরামর্শও দিয়েছিলেন শ্রীলেখা। কখনও নতুন সিনেমা দেখতে বলেছেন, কখনও পোষ্য রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু সেই সময় পরিচালকের উত্তর ছিল অত্যন্ত হতাশার— “আমাকেই দেখার কেউ নেই, আর একটা প্রাণকে কী ভাবে দেখব?”

এই কথাগুলোই এখন আরও বেশি নাড়া দিচ্ছে অভিনেত্রীকে। তাঁর মতে, অনীক দত্ত ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছিলেন, যদিও বাইরে থেকে সেটা অনেকেই বুঝতে পারেননি।

সব শেষে শ্রীলেখা বলেন, অনীক দত্ত ছিলেন “খাঁটি মানুষ”। অভিনয় জগতের কৃত্রিমতার ভিড়ে এমন মানুষ খুব কম দেখা যায়। তাই তাঁর চলে যাওয়া শুধু বাংলা সিনেমার নয়, ব্যক্তিগত ভাবেও এক অপূরণীয় ক্ষতি।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *