‘আরশোলা পার্টি’র জ্বর ছড়াল সীমান্ত পেরিয়ে!
সমাজমাধ্যমে মজা করেই শুরু হয়েছিল সবটা। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তা পরিণত হয়েছে এক আন্তর্জাতিক ভাইরাল আন্দোলনে। ভারতে তৈরি হওয়া ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি এখন সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে পাকিস্তানেও। সেখানে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন কয়েকটি অনলাইন গোষ্ঠী— ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ (সিএপি) এবং ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ (সিএএল)।
আরশোলাকে সাধারণত এমন এক প্রাণী হিসেবে দেখা হয়, যাকে সহজে নির্মূল করা যায় না। যে কোনও পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ক্ষমতাই যেন এই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভারতীয় তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গ মিলিয়ে তৈরি হওয়া এই ট্রেন্ড এখন পাকিস্তানের যুবসমাজকেও প্রভাবিত করছে।
ভারতে শুরু হওয়া সিজেপি প্রথমে নিছক মিম-ভিত্তিক একটি ব্যঙ্গ আন্দোলন হিসেবেই সামনে আসে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যায়। এমনকি দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতা, অভিনেতা ও পরিচিত ব্যক্তিত্বও এই ‘দল’-কে অনুসরণ করতে শুরু করেন।
পাকিস্তানের ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’ তাদের ইনস্টাগ্রাম বায়োতেই লিখেছে, “হ্যাঁ, নকল করেছি। কিন্তু তাতে কী! মূলমন্ত্র একই।” তাদের দাবি, তারা কোনও রাজনৈতিক দলের শাখা নয়, বরং পাকিস্তানের জেন-জ়ি প্রজন্মের হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিফলন।
ভারতের সিজেপি-র মতোই পাকিস্তানের এই গোষ্ঠীগুলিও ব্যঙ্গ, মিম এবং ছোট ভিডিয়োর মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। তবে তাদের মূল আলোচনার বিষয়— বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।
ভারতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-র একটি মন্তব্য ঘিরে। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে। তিনি বর্তমানে আমেরিকায় পড়াশোনা করছেন এবং সেখান থেকেই পুরো অনলাইন আন্দোলন পরিচালনা করছেন। অভিজিৎ আগে আম আদমি পার্টি-র সমাজমাধ্যম টিমের সঙ্গে কাজ করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
সিজেপি নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” বলে পরিচয় দেয়। তাদের ওয়েবসাইটে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবেও মজা করে লেখা হয়েছিল— “বেকার হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে এবং জীবনের উপর ক্ষোভ থাকা জরুরি।”
তবে ব্যঙ্গের আড়ালেও বেশ কিছু বাস্তব দাবি তুলে ধরছে এই গোষ্ঠী। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সরকারি জবাবদিহির মতো বিষয়ও রয়েছে তাদের আলোচনায়।
ভারতে জনপ্রিয় হওয়ার পর পাকিস্তানেও একই ধরণের ‘আরশোলা আন্দোলন’ শুরু হওয়ায় অনেকেই বলছেন, এটি শুধুমাত্র মজা নয়। বরং দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ সমাজের এক ধরনের হতাশা, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক ব্যঙ্গের নতুন ভাষা হয়ে উঠছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা