সরকার গঠনে টানাপড়েন তামিলনাড়ুতে!
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়-এর দল তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে) একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে কড়া বার্তা দিলেন বিজয়। তাঁর হুঁশিয়ারি, টিভিকে-কে সরকার গঠনের সুযোগ না দিলে দলের ১০৭ জন বিধায়ক একযোগে ইস্তফা দিতে পারেন।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। টিভিকে জিতেছে ১০৮টি আসনে। তবে বিজয় নিজে দু’টি কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ায় কার্যত তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭। অন্য দিকে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (ডিএমকে)-কংগ্রেস-বাম জোট পেয়েছে ৭৪টি আসন এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (এডিএমকে)-বিজেপি জোট জিতেছে ৫৩টি আসনে।
ফল ঘোষণার পর বুধবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর-এর সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। তিনি সরকার গঠনের সুযোগ চেয়ে আবেদন জানান। কিন্তু সূত্রের খবর, রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন— ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র ছাড়া সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব নয়।
এর পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, বিজয়কে ঠেকাতে রাজনৈতিকভাবে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এডিএমকে কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারে কি না। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
এ দিকে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই টিভিকে-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক এখনও পুরোপুরি মেলেনি। এই পরিস্থিতিতেই চাপ বাড়াতে ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যিই এত সংখ্যক বিধায়ক পদত্যাগ করেন, তা হলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি আসন পেলেও দলের প্রধান তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নিজে পরাজিত হয়েছেন। অন্য দিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাড়ি কে পলানীস্বামী-র নেতৃত্বাধীন এডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। বিজেপি ও পিএমকে-র সমর্থন মিলিয়েও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক দূরে।
সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে। শেষ পর্যন্ত রাজ্যপাল কাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা