ইস্তফা না দিলে কী হবে? মমতার সিদ্ধান্ত ঘিরে সাংবিধানিক প্রশ্ন

মমতার সিদ্ধান্ত ঘিরে সাংবিধানিক প্রশ্ন! ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে ইস্তফা দেবেন? সাধারণত নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র…

May 6, 2026
0 min read

মমতার সিদ্ধান্ত ঘিরে সাংবিধানিক প্রশ্ন!

ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে ইস্তফা দেবেন? সাধারণত নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পশ্চিমবঙ্গেও অতীতে এই রীতিই মেনে চলা হয়েছে। তাই সোমবার রাতেই অনেকের ধারণা ছিল, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে বেরিয়ে মমতা সরাসরি লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন। কিন্তু তা হয়নি—তিনি সোজা কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে যান।

এর পর মঙ্গলবার বিকেলে মমতা নিজেই জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দিতে চান না। তাঁর যুক্তি, তিনি বা তাঁর দল হারেনি, বরং ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সেই কারণেই পদত্যাগের প্রশ্নই উঠছে না বলে তাঁর বক্তব্য।

এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—মুখ্যমন্ত্রী যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা না দেন, তবে কী হবে? সংবিধানে এই ধরনের পরিস্থিতির নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। কারণ, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও কেউ ইস্তফা দেবেন না—এমন পরিস্থিতি আগে প্রায় দেখা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে না।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। সেই দিন পর্যন্ত মমতাই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, তিনি ইস্তফা দিন বা না দিন, স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পদ আর থাকবে না। অর্থাৎ, তাঁর নামের আগে ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ উপাধি যুক্ত হবে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ইস্তফা দেওয়া কোনও বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক নিয়ম নয়, বরং এটি একটি রীতি বা রাজনৈতিক শিষ্টাচার। যেমন ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই তুলনায় মমতার অবস্থান আলাদা বলেই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে শপথগ্রহণের নির্দিষ্ট দিন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ হতে পারে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে নেতা নির্বাচন করতে পারেন। যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনিই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।

যদি শপথগ্রহণ ৭ মের পর হয়, তাহলে মাঝের অল্প সময়ের জন্য একটি অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেই সময় রাজ্যপাল প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে পারেন, অথবা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হতে পারে। খুব প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি শাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে, তবে এত স্বল্প সময়ের জন্য তা সাধারণত প্রয়োগ করা হয় না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলেও প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক কোনও বড় সংকট তৈরি হবে না। তবে প্রচলিত রীতি ভাঙার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *