‘যোগ’-এর সূত্রে বাংলার সঙ্গে পরিচয়

‘যোগ’-এর সূত্রে বাংলার সঙ্গে পরিচয়! অনেকেই ভাবেন, একজন রাজনীতিক কোনও রাজ্যে এলে তিনি শুধুই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জায়গাটিকে বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভূপেন্দ্রের ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। বহু বছর আগে, রাজনীতির…

May 5, 2026
1 min read

‘যোগ’-এর সূত্রে বাংলার সঙ্গে পরিচয়!

অনেকেই ভাবেন, একজন রাজনীতিক কোনও রাজ্যে এলে তিনি শুধুই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জায়গাটিকে বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভূপেন্দ্রের ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। বহু বছর আগে, রাজনীতির দায়িত্ব পাওয়ার আগেই তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন যোগ শিখতে।
এই শিক্ষার কেন্দ্র ছিল শ্যামাচরণ লাহিড়ী-র পরম্পরা—যিনি বাংলায় ক্রিয়াযোগের অন্যতম প্রধান গুরু হিসেবে পরিচিত।

দক্ষিণেশ্বরের এক নিরিবিলি আশ্রমে সেই সাধনা চলাকালীনই তিনি প্রথম কাছ থেকে দেখেন বাঙালির জীবনযাপন, সংস্কৃতি, আচার এবং সমাজের নানা স্তর।

রাজনীতির বাইরে সমাজকে বোঝা

এই ‘যোগসূত্র’-এর অভিজ্ঞতা ভূপেন্দ্রকে এমন কিছু জিনিস বুঝতে সাহায্য করে, যা কেবল রাজনৈতিক প্রচার বা ডেটা দিয়ে বোঝা কঠিন।
তিনি জেলার পর জেলা ঘুরেছেন নিঃশব্দে—কখনও প্রচার ছাড়াই, কখনও দলীয় নেতাদের অজান্তে। ফলে তিনি শুধু ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক মানচিত্র নয়, সমাজের ভেতরের স্তরগুলিকেও ধরতে পেরেছিলেন।

একটি আলোচনায় তাঁর করা একটি প্রশ্নই তা প্রমাণ করে—পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি সমাজে সবচেয়ে বড় সম্প্রদায় কোনটি?
অনেকেই যেখানে উত্তর দিতে পারেননি, সেখানে তিনি নিজেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন—রাজবংশী, নমঃশূদ্র, মাহিষ্য—কোন সম্প্রদায় কোথায়, কীভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অবস্থান করছে।

‘নীরব’ কাজের ধরন

ভূপেন্দ্রের কাজের ধরণও ছিল আলাদা—

  • প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলা
  • মাঠে নীরবে কাজ করা
  • স্থানীয় বাস্তবতা বুঝে কৌশল তৈরি করা

তিনি শুধু জনসভা করেননি, বরং সংগঠনের ভেতরেও পরিবর্তন এনেছেন—তহবিল বণ্টন থেকে শুরু করে প্রার্থী বাছাই পর্যন্ত।

অভিজ্ঞতার প্রভাব

অনেকের মতে, এই গভীর সামাজিক বোঝাপড়াই তাঁর রাজনৈতিক কৌশলকে শক্তিশালী করেছে।
তিনি বুঝেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে শুধুই রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে নয়—সমাজের ভেতরের বাস্তবতা ধরতে পারলেই ফল পাওয়া সম্ভব।

এক ‘ছোটগল্প’-এর মতো অধ্যায়

ভোট শেষ। দায়িত্বও প্রায় শেষ। কিন্তু ভূপেন্দ্রের এই অধ্যায়টা শুধুই রাজনৈতিক নয়—এটা অনেকটা এক ছোটগল্পের মতো।
যেখানে রাজনীতি আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে এক ব্যক্তির কৌতূহল, শেখার ইচ্ছে এবং এক রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ।

এই কারণেই বলা যায়—পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা শুধু ‘প্রভারী’-র দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অনেকটা ব্যক্তিগত, প্রায় আধ্যাত্মিক এক যাত্রা।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *