‘মহেন্দ্র’ পাহাড়ের অন্তরে গোপন ঘাঁটি!
ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প— INS Varsha। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী রামবিল্লি অঞ্চলে, Eastern Ghats-এর ‘মহেন্দ্র’ পাহাড়ের ভিতরে তৈরি হচ্ছে এই ভূগর্ভস্থ ডুবোজাহাজ ঘাঁটি। মূল লক্ষ্য, পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ বা ‘নিঃশব্দ ঘাতক’-দের এমনভাবে মোতায়েন করা, যাতে শত্রুপক্ষের নজরদারি প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল পাহাড়ের ভিতর কাটা সুড়ঙ্গপথ, যা সরাসরি সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত। ফলে ডুবোজাহাজকে আর জলের উপর উঠে আসতে হবে না— গোপন সুড়ঙ্গ দিয়েই তারা ঘাঁটিতে ঢুকতে বা বেরোতে পারবে। আধুনিক যুদ্ধে যেখানে স্যাটেলাইট নজরদারি বড় ভূমিকা নেয়, সেখানে এই ধরনের আন্ডারগ্রাউন্ড বেস কার্যত ‘অদৃশ্য ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘাঁটির অবস্থানও অত্যন্ত কৌশলগত। কাছেই রয়েছে Visakhapatnam, যেখানে ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতর। পাশাপাশি, পরমাণু গবেষণার জন্য পরিচিত Bhabha Atomic Research Centre-এর উপস্থিতিও এই প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হতে চলা এই ঘাঁটিতে একসঙ্গে একাধিক পরমাণু ডুবোজাহাজ রাখার ব্যবস্থা থাকবে, সঙ্গে থাকবে মেরামত, অস্ত্র সংরক্ষণ ও নৌসৈনিকদের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো।
যদিও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সংঘাত— বিশেষ করে ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো— নতুন করে আলোচনায় এসেছে, তবুও এই প্রকল্পের পরিকল্পনা আজকের নয়। প্রায় দুই দশক আগে থেকেই এর নকশা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে INS Arihant, INS Arighat এবং সদ্য যুক্ত হওয়া INS Aridhaman-এর মতো পরমাণু ডুবোজাহাজ, যেগুলি দীর্ঘপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। ভবিষ্যতে এই বহর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আলাদা ও সুরক্ষিত ঘাঁটির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেড়েছে। বিশাখাপত্তনম বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের ভিড় থাকায় সামরিক জাহাজের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়— সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই ‘আইএনএস বর্শা’ প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রেক্ষাপটেও এই প্রকল্পের তাৎপর্য রয়েছে। বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের নৌ-সক্রিয়তা গত কয়েক বছরে বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এই গুপ্তঘাঁটি ভারতকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে আন্দামান-নিকোবর অঞ্চল বা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ— যেমন Strait of Malacca— নজরদারিতে রাখতেও এই ডুবোজাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘আইএনএস বর্শা’ শুধু একটি সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতের যুদ্ধে যেখানে গোপনীয়তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বড় অস্ত্র, সেখানে এই ‘মহেন্দ্র পাহাড়ের অন্তরের ঘাঁটি’ কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?