ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড!
গরমের ছুটিতে বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য একেবারে অন্য স্বাদের গল্প নিয়ে আসছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়। তাঁদের নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি করেছে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া টিজার সেই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করল।
টিজারের শুরু থেকেই একটা অস্বস্তিকর, অন্ধকার পরিবেশ তৈরি হয়— যেন অতীতের কোনও জমিদারবাড়ির ভিতরে লুকিয়ে আছে বহু না বলা গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন অর্জুন চক্রবর্তী, যিনি এক স্বৈরাচারী জমিদারের ভূমিকায়। তাঁর জীবনে একাধিক নারী— কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে নেই ভালোবাসা, আছে শুধু ক্ষমতা আর অত্যাচার।
এই নারীদের মধ্যেই রয়েছেন রাইমা সেন-এর ‘অদিতি’, যিনি সরাসরি অত্যাচারের শিকার। অন্যদিকে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘রাজলক্ষ্মী’— সব সহ্য করেও চুপ করে থাকা এক নারীর প্রতিচ্ছবি। নতুন বউ ‘বিনীতা’ চরিত্রে শ্যামৌপ্তি মুদলি, যিনি প্রাসাদে পা রেখেই যেন এক ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি হন।
এতেই শেষ নয়। প্রাসাদের বাইরেও অত্যাচারের শিকার ‘পুতলি বাই’— এই চরিত্রে অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। টিজারের একটি সংলাপ— “কিডনি হোক অথবা যোনি, মেয়েদের কিছুর ওপরেই কোনও অধিকার নেই”— যেন পুরো ছবির থিমটাই স্পষ্ট করে দেয়। নারীর উপর অত্যাচার, দমন আর প্রতিবাদের গল্পই এই ছবির কেন্দ্রে।
এই অন্ধকারের মাঝেই হঠাৎ ঘটে যায় একটি মৃত্যু— সেই স্বৈরাচারী জমিদারের। আর সেখান থেকেই শুরু আসল রহস্য। কে খুন করল? কেন? পাঁচ নারীর জীবনের সঙ্গে এই মৃত্যুর কী যোগ?
এই জট খুলতে আসছেন ‘ফুলপিসি’, অর্থাৎ সোহিনী সেনগুপ্ত। তাঁর সঙ্গে থাকবেন ‘এডওয়ার্ড’। তাঁদের তদন্তেই ধীরে ধীরে সামনে আসবে সত্যি। ছবিতে আরও রয়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত এবং অনামিকা সাহা।
সব মিলিয়ে ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ শুধু একটি রহস্যের গল্প নয়— এটি একাধিক নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা এক অন্ধকার সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। ক্ষমতা, নিপীড়ন আর প্রতিশোধ— এই তিনের মিশেলে তৈরি এই গল্প দর্শকদের ভাবাবে, নাড়িয়ে দেবে।
এখন অপেক্ষা শুধু মে মাসের— যখন বড় পর্দায় প্রকাশ পাবে এই রহস্যের আসল চেহারা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?