রাহুলের ৯২ রানের লড়াই বিফলে!
আইপিএলের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হাসল গুজরাত টাইটান্স। মাত্র ১ রানে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম জয় তুলে নিলেন শুভমন গিল-এর দল। অথচ ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন লোকেশ রাহুল— তাঁর দুরন্ত ৯২ রানের ইনিংস শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারল না।
গুজরাত প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২১০ রানের বিশাল স্কোর তোলে। ইনিংসের শুরুতেই ছন্দ এনে দেন জস বাটলার, যিনি মাত্র ২৭ বলে ৫২ রান করেন। এরপর দায়িত্ব নিয়ে খেলেন অধিনায়ক শুভমন, তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭০ রানের পরিপাটি ইনিংস। পাশাপাশি ওয়াশিংটন সুন্দর-এর ৫৫ রান গুজরাতকে শক্ত ভিত দেয়।
২১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একটু ধীর হলেও পরে গতি বাড়ায় দিল্লি। পাথুম নিশাঙ্কা ৪১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। কিন্তু মাঝপথে হঠাৎ ধাক্কা দেয় রশিদ খান। তিনি পরপর উইকেট তুলে ম্যাচে গুজরাতকে ফেরান।
এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন রাহুল। এক প্রান্ত ধরে রেখে অসাধারণ ৯২ রান করেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল ১১টি চার এবং ৪টি ছয়— এক কথায় নেতৃত্বগুণে ভরা ইনিংস। শেষ দিকে ফিরে এসে লড়াই জারি রাখেন ডেভিড মিলার-ও। ২০ বলে ৪১ রান করে ম্যাচ প্রায় জয়ের মুখে এনে দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু নাটক জমে ওঠে শেষ ওভারে। জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ-র বাউন্সার সামলাতে পারেননি মিলার। মরিয়া হয়ে রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হন কুলদীপ যাদব— আর সেখানেই শেষ হয়ে যায় দিল্লির স্বপ্ন।
তবে ম্যাচে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল শেষ ওভারের পঞ্চম বল। তখন সহজেই ১ রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মিলার সেই ঝুঁকি নেননি। যদি রান নেওয়া হত, ম্যাচ গড়াতে পারত সুপার ওভারে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে ম্যাচ শেষে।
বল হাতে গুজরাতের সেরা ছিলেন রশিদ, মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। প্রসিদ্ধ নেন ২ উইকেট। যদিও শেষের ওভারগুলোতে কিছুটা খরচে ছিলেন মোহাম্মদ সিরাজ।
সব মিলিয়ে, এটি ছিল আইপিএলের আরেকটি ক্লাসিক ম্যাচ— যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান মাত্র এক বল। গুজরাতের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জয়, আর দিল্লির জন্য শেখার মতো কঠিন অভিজ্ঞতা।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না