ম্যাচ জেতানোর স্বপ্নে বৈভব সূর্যবংশী!
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ঝড় তোলা ব্যাটিং দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু এ বার আইপিএলে তাঁর লক্ষ্য শুধুই চার-ছক্কা হাঁকানো নয়—বরং আরও বড়, আরও পরিণত। দ্বিতীয় আইপিএল মরসুমে নামার আগে এই তরুণ ব্যাটার জানিয়ে দিলেন, তিনি দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে চান।
রাজস্থান রয়্যালস-এর হয়ে গত বছরই অভিষেক হয়েছিল বৈভবের। প্রথম মরসুমেই ৭ ম্যাচে ২৫২ রান, তাও ২০০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে—চমকে দিয়েছিল সবাইকে। এমনকি শতরানও করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁর ভাবনা বদলেছে। ব্যক্তিগত ঝলক নয়, দলগত সাফল্যই এখন মূল লক্ষ্য।
বৈভব নিজেই জানিয়েছেন, তিনি অনুপ্রাণিত ব্রায়ান লারা এবং যুবরাজ সিংহ-এর মতো ম্যাচ উইনারদের দেখে। তাঁর কথায়, “ওঁরা শুধু রান করতেন না, ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়তেন। আমি সেই রকমই খেলতে চাই।” অর্থাৎ, দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ জেতানো—এই মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি।
শুধু আইপিএল নয়, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছেন বৈভব। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং এমার্জিং এশিয়া কাপে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর পারফরম্যান্স নজরকাড়া—বিজয় হজারে ট্রফিতে ৮৪ বলে ১৯০ রান, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে অপরাজিত ১০৮—এই সব ইনিংসই তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
তবে আগ্রাসী ব্যাটিং কি কমে যাবে? সে রকমটা নয়। বরং আগের মতোই পাওয়ার প্লে-তে আক্রমণাত্মক খেলতে চান বৈভব, কিন্তু এখন তিনি আরও সচেতন। তাঁর লক্ষ্য, ভাল শুরু করে বড় ইনিংসে রূপান্তর করা এবং উইকেটের মূল্য বোঝা।
এই পরিবর্তনের পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর প্রথম কোচ মণীশ ওঝা-র। ছোটবেলা থেকেই বৈভবের স্বাভাবিক আগ্রাসনকে দমিয়ে না রেখে, সেটাকেই শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘ ইনিংস খেলার জন্য ধৈর্য ও ম্যাচ সেন্স তৈরির উপরও জোর দিয়েছেন।
বৈভবের কোচের কথায়, “ও ছোটবেলা থেকেই বল মারতে ভালোবাসত। কিন্তু আমরা ওকে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে শিখিয়েছি।” যদিও বৈভবের নিজের যুক্তি ছিল স্পষ্ট—“যদি ছয় মারতে পারি, তাহলে খুচরো রান কেন?”—এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
এ বার আইপিএল বৈভবের জন্য বড় পরীক্ষা। প্রতিভা তো তিনি দেখিয়েছেনই, কিন্তু এখন প্রমাণ করতে হবে—তিনি শুধু দর্শকদের মনোরঞ্জনই নয়, দলকে জেতাতেও পারেন।
সব মিলিয়ে, বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে আগ্রাসন থাকবেই, তবে তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ম্যাচ জেতানোর পরিণত ভাবনা। আর সেটাই হয়তো তাঁকে আগামী দিনের বড় তারকা করে তুলতে পারে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না