উদয়ন গুহ পরিবারেই ফাটল!
ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে দিনহাটার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও প্রভাবশালী নেতা Udayan Guha-র ভাইপো জয় গুহ দল ছেড়ে যোগ দিলেন Bharatiya Janata Party-তে। স্বাভাবিকভাবেই এই দলবদল ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শনিবার দিনহাটায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন জয়। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা সভাপতি Abhijit Barman। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি প্রার্থী Ajay Roy-সহ দলের একাধিক নেতা।
দলবদলের পর নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জয় বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রথমে বামপন্থী সংগঠনে কাজ করলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর মনে অসন্তোষ তৈরি হয়। তাঁর কথায়, “উন্নয়নের নামে কাটমানির সংস্কৃতি আমাকে হতাশ করেছে। তাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলার পুরনো গৌরব ফেরাতে পরিবর্তন প্রয়োজন, আর সেই পরিবর্তন সম্ভব বিজেপির হাত ধরেই।
বিজেপির পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণের দাবি, জয় গুহর দলত্যাগ প্রমাণ করে তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁর কথায়, “দিনহাটার মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। প্রতিদিনই অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।”
তবে তৃণমূল শিবির এই ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। উদয়ন গুহর পরিবারেরই আরেক সদস্য নীলাঞ্জন ব্রহ্ম পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “এ সব বিজেপির সস্তার রাজনীতি। উন্নয়নের নিরিখে উদয়ন গুহকে কেউ হারাতে পারবে না।” তাঁর দাবি, এই ধরনের দলবদল সাধারণ মানুষের মনে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
নীলাঞ্জন আরও বলেন, এর আগেও বিজেপি উদয়ন গুহর পরিবারের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে। তাই এই ঘটনাকেও তিনি সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন। তাঁর সাফ কথা, “যদি লড়াই করতেই হয়, তা হলে উন্নয়ন নিয়ে লড়াই হোক।”
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে দিনহাটায়। এই পরিস্থিতিতে শাসক দলের প্রার্থীর পরিবারের সদস্যের দলবদল নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এর প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা পড়বে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত।
একদিকে বিজেপি এটিকে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল একে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে দিনহাটার রাজনীতি আরও জমে উঠেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।