‘ভূত বাংলা’র গান ঘিরে নতুন বিতর্কে সঙ্গীতজগৎ!
সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘রামজি আকে ভলা করেঙ্গে’— আসন্ন ছবি Bhooth Bangla-র একটি গান। গানের কয়েকটি লাইন— “কালা ভূত, গোরা ভূত, লম্বা ভূত, ছোটা ভূত”— শুনে অনেক শ্রোতারই মনে পড়ে গেছে Goopy Gyne Bagha Byne ছবির বিখ্যাত গান ‘ভূতের রাজা দিল বর’। সেই গানটির স্রষ্টা কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার Satyajit Ray।
সামাজিক মাধ্যমে এই মিল নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা— এটা কি সত্যিই ‘ট্রিবিউট’, নাকি ‘নকল’? বিতর্ক বাড়ার আগেই সুরকার Pritam Chakraborty স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গানটি আসলে সত্যজিৎ রায়ের ক্লাসিক ছবিকে শ্রদ্ধা জানাতেই তৈরি। ছবির পরিচালক Priyadarshan এবং অভিনেতা Akshay Kumar-এর পক্ষ থেকেও এটিকে একটি ‘ট্রিবিউট’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কোথায় শেষ হয় ‘অনুপ্রেরণা’, কোথা থেকে শুরু ‘নকল’?
প্রশ্নটা এখানেই— কোনও শিল্পকর্মকে উৎসর্গ করতে গিয়ে কতটা মিল থাকলে সেটিকে ‘ট্রিবিউট’ বলা যায়? আর ঠিক কোন সীমা পেরোলেই তা হয়ে যায় ‘চুরি’ বা ‘নকল’?
এই বিতর্কের আশঙ্কা হয়তো আগেই ছিল। তাই গানটি প্রকাশের সময়ই প্রীতম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, গানটি সত্যজিৎ রায়ের ছবিকে উৎসর্গ করে বানানো।
গানটি গেয়েছেন বাঙালি গায়ক আর্ভান। তাঁর বক্তব্য, শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিকে সম্মান জানানো। তবে তিনি দাবি করেছেন, আসল গান ও নতুন গানের সুরের বিন্যাস আলাদা। মন দিয়ে শুনলে স্কেল ও সুরের পার্থক্য বোঝা যাবে।
শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া দুই মেরুতে
গানটি নিয়ে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ একে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আবার কেউ মনে করছেন, এটি আসল গানের খুব কাছাকাছি চলে গেছে।
তবে এ ধরনের বিতর্ক সঙ্গীতজগতে নতুন নয়। অতীতে প্রীতমের বেশ কিছু গান— যেমন ‘বুলেয়া’ বা ‘ধুম মচালে’— নিয়েও নকলের অভিযোগ উঠেছিল। একইভাবে Anu Malik-এর কিছু গান নিয়েও অতীতে বিতর্ক হয়েছিল।
সঙ্গীত বিশেষজ্ঞদের মত
সঙ্গীত পরিচালক Debojyoti Mishra মনে করেন, কতটা নকল করলে তা চুরি হবে— এমন কোনও নির্দিষ্ট মাপ নেই। তাঁর মতে, সৃষ্টির নেপথ্যের উদ্দেশ্যটাই আসল বিষয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পরিচালক Anik Dutta-র ছবি Bhobishyoter Bhoot-এ তাঁর নিজের একটি গানেও ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর প্রভাব ছিল। কিন্তু সেটি অনুপ্রেরণা হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছিল।
আইন কী বলছে?
কপিরাইট আইন অনুযায়ী, কোনও গান নতুন করে ব্যবহার করতে হলে মূল স্বত্বাধিকারীর অনুমতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, সত্যজিৎ রায়ের কাজের অধিকারের দায়িত্ব এখন তাঁর ছেলে Sandip Ray-এর হাতে।
সন্দীপ রায়ের মতে, নতুন গানে যে অংশটি ব্যবহার হয়েছে তা খুবই ছোট। তাই তিনি এটিকে ‘ট্রিবিউট’ হিসেবেই দেখছেন, বড় কোনও সমস্যা বলে মনে করছেন না।
শিল্পে প্রভাব— স্বাভাবিক না বিতর্কিত?
অনেক শিল্পীর মতে, সঙ্গীতে অনুপ্রেরণা বা প্রভাব থাকা খুব স্বাভাবিক। পরিচালক Qaushiq Mukherjee-র ভাষায়, এটি অনেক সময় ‘স্যাম্পলিং’-এর মতো— যেখানে পুরনো সুরের একটি অংশ নতুন সৃষ্টিতে ব্যবহার করা হয়।
অতীতে Rabindranath Tagore-এর অনেক গানেও বিভিন্ন বিদেশি সুরের প্রভাবের কথা বলা হয়।
সব মিলিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— সঙ্গীতে অনুপ্রেরণা, শ্রদ্ধা আর নকলের সীমারেখা কখনও কখনও এতটাই সূক্ষ্ম যে, তার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?