এলপিজি বুকিংয়ে নতুন নিয়ম!
দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী Hardeep Singh Puri। তিনি জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় দুটি এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে ৪৫ দিনের ব্যবধান রাখা হয়েছে। তবে শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান এখনও ২৫ দিনই রয়েছে।
কেন বদলানো হল বুকিংয়ের সময়সীমা?
সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল গ্যাসের কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মজুতদারি রোখা। প্রথমে নিয়ম ছিল—একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। সংসদে প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ২৫ দিনের নিয়ম কেবল শহরের জন্যই প্রযোজ্য।
জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের প্রয়োজন নেই
মন্ত্রী জানান, দেশে পেট্রল, ডিজ়েল বা কেরোসিনের কোনও ঘাটতি নেই। এলপিজির ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
ভারত মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে। এর বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে, বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ওই রুটে পরিবহণ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থায়।
উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দেশের ভেতরেই এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, ৮ মার্চ কেন্দ্রের নির্দেশিকার পর থেকেই উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়াও সরকার বিকল্প পথেও জ্বালানি আমদানি করছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারত প্রায় ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে, যাতে সরবরাহে কোনও বড় সমস্যা না হয়।
দাম বাড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে
এদিকে চলতি মাসেই রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। **Kolkata-এ এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৬০ টাকা বেড়ে ৯৩৯ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে অনেক পরিবারেই খরচের চাপ বেড়েছে।
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠছে—কোথাও সিলিন্ডার বুক করতে সমস্যা হচ্ছে, আবার কোথাও বুক করার পরেও সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে অনেক হোটেল ও রেস্তরাঁও সমস্যায় পড়েছে।
তবে মন্ত্রীর দাবি, সাধারণ পরিস্থিতিতে বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে, এবং সেই সময়সীমায় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
অন্যান্য গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি নেই
মন্ত্রী আরও জানান, অন্য জ্বালানির ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা নেই। তাঁর কথায়, সিএনজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে, এবং এলএনজি-রও কোনও ঘাটতি নেই। প্রতিদিনই বিভিন্ন বিকল্প রুট দিয়ে এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছচ্ছে।
সব মিলিয়ে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। তবে নতুন বুকিং নিয়মের ফলে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেকেই কিছুটা চিন্তায় পড়েছেন—কারণ এখন দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করতে অপেক্ষা করতে হবে পুরো ৪৫ দিন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?